অতিরিক্ত ইউনিটের হিসাব জানতে চাওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎকর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ
পাবনায় বিদ্যুৎ মিটারে অতিরিক্ত ইউনিট দেখানোর কারণ জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের বিরুদ্ধে একই পরিবারের তিন সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনজনই আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের ডান কাঁধ ও পেশিতে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের চর মাধপুর মকছেদ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আসিফ আলী (২৩) এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে আসিফ বলেন, তাদের বাড়িতে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার রয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাধপুর বাজার ও দাশুড়িয়া অফিসের মিটার রিডার পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে আসেন।
এ সময় মিটারে অতিরিক্ত ইউনিট ওঠার কারণ জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন আসিফ। তার বাবা আছাব আলী এর প্রতিবাদ করলে এক ব্যক্তি তার গলা ধরে ধাক্কা দেন। পরে কয়েকজন বাঁশ দিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তার হাত, পিঠ, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আসিফের কাকা রুবেলকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর পরিবারের ছোট ছেলে ইমন তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় এক ব্যক্তি বাঁশ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে ইমন দুই হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান কাঁধ ও পেশিতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকেও মারধর করা হয়।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। ইমনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য দুজনও চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আসিফ আলী।
অভিযোগের বিষয়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রথিন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে অফিসিয়ালভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এমএ//