পাবনায় পাটের ন্যায্যমূল্যে চান কৃষকরা
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় এখন পুরোদমে চলছে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার মৌসুম। তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে মাঠে দিনভর কাজ করছেন কৃষকেরা। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে উপজেলায় ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।তবে ফলন ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। ন্যায্যমূল্য পেতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
সোমবার (২০ জুলাই) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আটঘরিয়ার দেবোত্তর, মাঝপাড়া, একদন্ত, সুতির বিল, চাঁদভা ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন শুধু পাট কাটার ব্যস্ততা।
কোথাও পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও আঁটি বাঁধা হচ্ছে। আবার কোথাও কাঁধে করে পাট নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খাল-বিল ও জলাশয়ে জাগ দেওয়ার জন্য। কেউবা আবার পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষকেরা বলছেন, সময়মতো পাট কেটে জাগ না দিলে আঁশের মান কমে যায়। তবে ফলন ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।এবার বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ আর শ্রমিকের খরচ অনেক বেড়েছে। বাজারে ভালো দাম না পেলে খরচই উঠবে না।
পাট চাষী সুবাহান আলী বলেন, বর্তমান সময়ে পাট চাষ করতে গেলে কৃষকের তেমন কিছুই থাকছে না| বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ আর শ্রমিকের মূল্য বেশী হওয়ায় আমারা লাভবান হতে পারছিনা কোন রকম চলে যাচ্ছে।
সুতার বিলের আলমগীর হোসেন বলেন, এবার পাটের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা দুশ্চিন্তায় আছে পাটের দাম নিয়ে। সরকারের সুদৃষ্টি দরকার পাট চাষীদের প্রতি যাতে পাটের দাম ভালো পায়।

লক্ষীপুরের পাট চাষী আবুল হোসেন বলেন, এখন প্রতি মণ পাটের দাম যাচ্ছে ২০০০-২৫০০ টাকা, এই পাট ৪০০০-৫০০০ টাকা বিক্রি হলে কৃষক বাঁচবে। তা নাহলে কৃষকরা পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন।
আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, গত বছরের চেয়ে পাটের চাষ এবার বেশী হয়েছে। এবার ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। যা গত বছর হয়েছিল ৪৭.৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের পাশাপাশি কৃষকদের সময়মতো পাট কাটা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া এবং উন্নতমানের আঁশ উৎপাদনের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। সঠিক সময়ে পাট কাটা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে জাগ দেওয়া হলে আঁশের গুণগত মান ভালো থাকে। এতে বাজারেও তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ সবসময় কাজ করছে ।
আই/এ