কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ২৭৩, নিখোঁজ ৩৭৭
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৭৩ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৮২৪ জন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩৭৭ জন। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০ হাজার ৭৫৩টি পরিবার।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দেশটির ন্যাশনাল ইউনিট ফর ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্টের (ইউএনজিআরডি) পরিচালক ডেভিড তামায়ো হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ তথ্য জানান।
গেল সোমবার পশ্চিম কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। অসংখ্য বাড়িঘরের পাশাপাশি স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে। রাজধানী বোগোতাসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। প্রতিবেশী কয়েকটি দেশেও ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে।
এখনো বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, সেখানে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা তত কমে আসছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে কলম্বিয়া সরকার। ডেভিড তামায়ো জানান, নাসা এবং ইন্টারন্যাশনাল চার্টার অন স্পেস অ্যান্ড মেজর ডিজাস্টার্সের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে কলম্বিয়া সরকারের নেতৃত্বাধীন একটি ভূস্থানিক টাস্কফোর্স।
ইতোমধ্যে ১৬৬টি উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এয়ারবাসের কাছ থেকে কালি, কার্তাগো, মানিজালেস ও পেরেইরা শহরের আরও উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি পাওয়া গেছে।
এসব তথ্যের মাধ্যমে কোন এলাকায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কোথায় জরুরি সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি—তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ার উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশ এগিয়ে এসেছে। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে ইসরায়েল, ইকুয়েডর, এল সালভাদর ও যুক্তরাষ্ট্রের দল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেক্সিকোও একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কলম্বিয়ার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কিছু সনদ চাওয়ায় দলটির মোতায়েন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে উদ্ধারকারী দলটি কলম্বিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে।
এরই মধ্যে মেক্সিকোর বিমানবাহিনীর হারকিউলিস উড়োজাহাজে করে কলম্বিয়ায় খাবার, চিকিৎসাসামগ্রীসহ জরুরি সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি টোলিমা বিভাগে ৩০টি বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণেও কাজ করতে হচ্ছে জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে। ফলে একই সময়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ আরও বেড়েছে।
এমএ//