আন্তর্জাতিক

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১১১

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবারের এ ভূমিকম্পে শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্থাপনা পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছেন। বড় কংক্রিটের টুকরোসহ বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ হাত ধরে একে অপরের কাছে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।

কালি ছাড়াও পশ্চিমাঞ্চলের পেরেইরা, কিবদো ও মানিজালেস শহরে ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। এলাকাটি রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ৮৭ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬১টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশটির ভূতাত্ত্বিক সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একুশ শতকে কলম্বিয়ায় রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী। মূল কম্পনের পর বেশ কয়েকটি আফটার শকও অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর কাছাকাছি। বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি এই বলয়। চোকো কলম্বিয়ার দরিদ্রতম অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং ঘন জঙ্গলে ঘেরা হওয়ায় সেখানকার অনেক এলাকায় সড়কপথে পৌঁছানো কঠিন। ফলে দুর্গম এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে আরও সময় লাগতে পারে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন