আন্তর্জাতিক

সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের ‘জামাতি-মৌলবাদী’ বললেন শুভেন্দু অধিকারী

ভারতে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের ‘জামাতি-মৌলবাদী’, ‘বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট’ ও ‘গুন্ডা’ বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি দাবি করেন, হামলাকারীদের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার (২৬ জুলাই) কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে নন্দীগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভিডিও ফুটেজে যাদের শনাক্ত করা গেছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দাবি, এদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নিট আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা ছাত্রও নয়। তার অভিযোগ, এরা জামাতি ও মৌলবাদী চক্রের সদস্য, যারা ভারতের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, গত ১০ সপ্তাহে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার যেসব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, সেসবের বিরোধিতা থেকেই একটি পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।

তার মতে, খারিজি মাদ্রাসার নিবন্ধন যাচাই, অবৈধ ওবিসি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত, ১৯৫০ সালের পশু জবাই আইন কার্যকর এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে ক্ষুব্ধ হয়েই তারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে লাথি মারা হয়েছে। তার প্রশ্ন, এটিকে কীভাবে ছাত্র আন্দোলন বলা যায়? তিনি বলেন, যারা এসব করেছে তারা আন্দোলনকারী নয়, বরং গুন্ডা। তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত শুক্রবার নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতায় বিক্ষোভ চলাকালে একদল দুর্বৃত্ত কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের মারধর করা হয়। নারী সাংবাদিকদেরও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। হামলায় আহত হন ‘এই সময়’-এর সাংবাদিক শিলাদিত্য কর। পরে তাকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন রাতেই হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। সে সময়ও তিনি জানিয়েছিলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

রোববারও শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ওই বিক্ষোভ বামপন্থী দলগুলোর ছিল না; এটি মূলত ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি, পরে বামপন্থীরা এতে যুক্ত হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গে নিট আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রকৃত শিক্ষার্থীদের কেউই সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকদের ওপর হামলার দায় অস্বীকার করেছেন। কলকাতা পুলিশের কমিশনার তাকে ঘটনার সব তথ্য ও ভিডিও পাঠিয়েছেন এবং সেগুলো তিনি পর্যালোচনা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তার মতে, সংবাদকর্মীদের যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা প্রাণনাশের চেষ্টার শামিল। এ ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে। এর বেশির ভাগই দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকরা। পাশাপাশি পুলিশও কয়েকটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সংবাদকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২২ সালের পৌর নির্বাচন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন, ভাঙড়, সন্দেশখালি ও অভয়া আন্দোলনের সময়ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে তখন প্রেস ক্লাব, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুধু কথায় নয়, কাজেও গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের পাশে রয়েছে। আহত সাংবাদিকদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার পর তারা সাহস নিয়ে মামলা করেছেন, চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সেই ঘটনার জেরে ইতোমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন