হালান্ডের নেতৃত্বে ইতালির বিয়ের আসরে বিশ্বকাপের ‘ভাইকিং রো’
ফুটবল মাঠে আর্লিং হালান্ডকে চেনা যায় গোলের পর গোল করে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করার জন্য। তবে এবার নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার আলোচনায় এসেছেন মাঠের বাইরে এক ভিন্ন কারণে। ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুমার বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের নিয়ে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের নেতৃত্ব দিয়ে আবারও বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় মুহূর্ত ফিরিয়ে আনলেন তিনি।
বিশ্বকাপের গ্যালারিতে জন্ম নেওয়া যে উদযাপন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল, সেটিই এবার জায়গা করে নিল ইতালির এক তারকাখচিত বিয়ের আসরে।
দোনারুমার বিয়েতে জমে উঠল ‘ভাইকিং রো’
ইতালির ফাসানো শহরে দীর্ঘদিনের সঙ্গী আলেসিয়া এলেফান্তের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দোনারুমা। অনুষ্ঠানে ফুটবল বিশ্বের বহু পরিচিত মুখের উপস্থিতি ছিল। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা, ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি, সান্দ্রো তোনালি ও নিকোলো বারেল্লাসহ আরও অনেকেই।
তবে পুরো আয়োজনের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত তৈরি করেন হালান্ড। হাতে ড্রাম তুলে নিয়ে তিনি ছন্দ তোলা শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই স্যুট-টাক্সেডো পরা অতিথিরা মেঝেতে বসে একসঙ্গে সামনে-পেছনে দুলতে থাকেন, যেন সবাই একই নৌকায় বৈঠা চালাচ্ছেন। এভাবেই শুরু হয় নরওয়ের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন।
বিশ্বকাপ থেকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়ের সমর্থকদের অন্যতম পরিচয়ে পরিণত হয়েছিল ‘ভাইকিং রো’। দল মাঠে নামলেই গ্যালারিতে হাজারো সমর্থক একই ছন্দে এই উদযাপনে অংশ নিতেন। জয় এলেই ফুটবলাররাও সমর্থকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে একই ভঙ্গিতে আনন্দ ভাগ করে নিতেন।
শুধু স্টেডিয়ামেই নয়, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও হাজার হাজার সমর্থক একসঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে জনপ্রিয় সমর্থক-সংস্কৃতিগুলোর একটিতে পরিণত হয়। ফিফাও এই উদযাপনকে টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় সমর্থক ঐতিহ্য হিসেবে তুলে ধরে।
ব্রাজিলকে হারানোর পর আরও উজ্জ্বল প্রতীক
নরওয়ের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায় ‘ভাইকিং রো’। প্রথমবারের মতো দলটি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। শেষ ষোলোয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে বড় চমক সৃষ্টি করে তারা।
সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন আর্লিং হালান্ড। ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সতীর্থদের নিয়ে মাঠেই ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন করেন তিনি। এরপর থেকেই এটি শুধু একটি গোল উদযাপন নয়, বরং নরওয়ের সাফল্য, ঐক্য ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীকে রূপ নেয়।
ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে নরওয়ের সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও এই উদযাপনে অংশ নিতে দেখা যায়, যা এর জনপ্রিয়তাকে আরও বিস্তৃত করে।
বিশ্বকাপ শেষ, আবেগ নয়
বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে কয়েক সপ্তাহ আগেই। কিন্তু ‘ভাইকিং রো’-এর উন্মাদনা এখনও থামেনি। দোনারুমার বিয়ের অনুষ্ঠানে হাল্যান্ডের নেতৃত্বে আবারও সেই দৃশ্য প্রমাণ করে দিয়েছে, এটি এখন আর শুধু ফুটবলের কোনো উদযাপন নয়।
বিশ্বকাপের গ্যালারি, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে ইতালির অভিজাত বিয়ের আসর— সবখানেই সমান জনপ্রিয় ‘ভাইকিং রো’। নরওয়ের জাতীয় গর্ব, ঐক্য এবং স্মরণীয় বিশ্বকাপ অভিযানের প্রতীক হয়ে ওঠা এই উদযাপনের সবচেয়ে বড় মুখ এখন নিঃসন্দেহে আর্লিং হালান্ড।
এসি//