গোলের পর ‘৩০৪’ উদযাপন, রহস্য ফাঁসে প্রশংসায় ভাসছেন ইয়ামাল
গোল করার পর দুই হাত তুলে ‘৩০৪’ সংখ্যা দেখান লামিন ইয়ামাল। অনেকেই শুরুতে এটিকে সাধারণ এক গোল উদযাপন ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায়, এই তিন অঙ্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার শৈশব, বেড়ে ওঠা এবং নিজের শিকড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা। ‘৩০৪’ হলো বার্সেলোনার রোকাফোন্দা এলাকার ডাক (পোস্টাল) কোডের শেষ তিন অঙ্ক—যে এলাকায় তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রশংসায় ভাসতে শুরু করেন ২০২৬ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের এই তরুণ ফুটবলার। তবে শুধু শিকড়ের প্রতি ভালোবাসাই নয়, আরেকটি ঘটনাও ভক্তদের মন ছুঁয়ে গেছে। বার্সেলোনা সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক ফটোশুট তিনি পিছিয়ে দিয়েছিলেন, যেন তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ দাদি ফাতিমা সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই লামিন ইয়ামাল মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিনয়ী ব্যক্তিত্বের জন্যও ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন।
তিনি একাধিকবার বলেছেন, মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা-মা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর তার বাবা-পক্ষের দাদি ফাতিমাই তাকে বড় করে তুলেছেন। জীবনের কঠিন সময়গুলোতে তিনিই ইয়ামালকে আগলে রেখেছেন এবং সবসময় মাটির মানুষ হয়ে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন।

ফাতিমা ১৯৯০ সালে মরক্কো থেকে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমান। তাদের একজন ছিলেন ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই। পরে ইয়ামালের মা শেইলা এবানা, যিনি ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বাসিন্দা এবং বাবা নাসরাউই আলাদা হয়ে গেলে ফাতিমাই নাতির লালন-পালনের বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।
দাদির প্রতি ইয়ামালের ভালোবাসার আরেকটি গল্পও বেশ আলোচিত।
একসময় তিনি ফাতিমাকে একটি নতুন বাড়ি কিনে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফাতিমা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাতারোর শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দাতেই থাকতে চান, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে তার জীবন গড়ে উঠেছে।
নিজের শিকড়কে কখনো না ভোলা, দাদির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা—এই দুই দিকই নতুন করে তুলে ধরেছে লামিন ইয়ামালের ব্যক্তিত্ব। আর সে কারণেই মাঠের বাইরেও কোটি ভক্তের ভালোবাসা ও প্রশংসা কুড়িয়ে চলেছেন বিশ্বকাপ ২০২৬ জয়ী স্পেনের তারকা খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল।
এসি//