‘তুমি তো যথেষ্ট শক্তিশালী’—মেসিকে বেলিংহাম
ম্যাচের ঘড়িতে তখন সবে কয়েক মিনিট পেরিয়েছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের উত্তাপ ঠিক তখনই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে মাঠজুড়ে। এমন সময় হঠাৎই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যান লিওনেল মেসি ও জুড বেলিংহাম। দুজনের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের তর্ক, মেসির তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর অবজ্ঞাভরা ভঙ্গিতে মাথা নাড়ার দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর থেকেই সেই ভিডিও হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
দৃশ্যটি দেখে অনেকেই দুজনের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধের ইঙ্গিত খুঁজতে শুরু করেন। তবে ম্যাচ শেষে সেই জল্পনায় নিজেই পানি ঢেলে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের তরুণ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম।

তার মতে, পুরো ঘটনাটি ছিল একটি ফাউলকে ঘিরে মাঠের স্বাভাবিক কথোপকথন। বিষয়টিকে অযথা বড় করে দেখার কোনো কারণ নেই।
বেলিংহাম জানান, তার মনে হয়েছিল এর আগে ইংল্যান্ডের একজন খেলোয়াড় ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলতেই মেসি পাল্টা নিজের ওপর হওয়া একটি ফাউলের কথা উল্লেখ করেন। তখন বেলিংহাম হালকা রসিকতার সুরে বলেন, ‘তুমি তো যথেষ্ট শক্তিশালী, এটা সামলে নিতে পারো।’ এরপরই কথোপকথনের ইতি ঘটে।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের উত্তেজনাপূর্ণ এই সেমিফাইনালে মোট ২৬টি ফাউল হয়। এর মধ্যে ১৫টি করে আর্জেন্টিনা, আর ইংল্যান্ড করে ১১টি। ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আবহেই মেসি ও বেলিংহামের ওই সংক্ষিপ্ত বাক্যবিনিময়ের জন্ম হয়।

মাঠের উত্তেজনা দেখে অনেকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের গল্প খুঁজলেও, বেলিংহাম স্পষ্ট করে দেন যে বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। বরং খেলা শেষে তিনি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাই তুলে ধরেন।
ইংল্যান্ডের এই তরুণ তারকা বলেন, পরাজয়ের কষ্ট অবশ্যই আছে। তবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসির বিপক্ষে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে খেলতে পারাটাও তার জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা এবং সৌভাগ্যের বিষয়।
মাঠে কয়েক সেকেন্ডের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় যতটা আলোড়ন তুলেছিল, ম্যাচ-পরবর্তী বেলিংহামের ব্যাখ্যা ততটাই পরিষ্কার করে দিয়েছে—এটি ছিল বিশ্বকাপের উচ্চচাপের ম্যাচে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবলারের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, ব্যক্তিগত কোনো তিক্ততার গল্প নয়।
এসি//