খেলাধুলা

ইতিহাসের দীর্ঘতম বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখবে ফুটবল বিশ্ব

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার শুধু শিরোপার লড়াই নয়, আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ম্যাচের বিরতিও। ফুটবলের দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে বিশ্বকাপ ফাইনালে আমেরিকার জনপ্রিয় ‘সুপার বোল’ আদলে হাফটাইম শো আয়োজন করতে যাচ্ছে ফিফা। তবে এই আয়োজনের চেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিরতির সম্ভাব্য সময় নিয়ে। ফুটবল আইনে নির্ধারিত ১৫ মিনিটের হাফটাইম বাড়িয়ে প্রায় ৩০ মিনিট করার প্রস্তুতি নেওয়ায় সমর্থক থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যেও শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক।

আগামী রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউজার্সির স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেন। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে ফিফার নতুন পরিকল্পনা।

ইংলিশ সংবাদমাধ্যম মিরর ফুটবল জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতি প্রায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। অথচ ফুটবলের অফিশিয়াল নিয়মে হাফটাইমের জন্য বরাদ্দ মাত্র ১৫ মিনিট। যদি সেটিই বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি হবে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতিগুলোর একটি।

ফিফার এই বিশেষ আয়োজনের মূল আকর্ষণ থাকছে সুপার বোলের আদলে নির্মিত একটি জমকালো হাফটাইম শো। সম্ভাব্য পরিবেশনার তালিকায় রয়েছেন ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, শাকিরা, বিটিএস, বার্না বয় এবং গুস্তাভো দুদামেল। তাদের সঙ্গে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নিতে পারে কোল্ডপ্লের সঙ্গে পিএস২২ কোরাস।

শুধু হাফটাইম নয়, ম্যাচ শুরুর আগেও থাকছে বিশাল আয়োজন। খেলা শুরু হওয়ার প্রায় ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে সমাপনী অনুষ্ঠান। সেখানে পারফর্ম করার কথা রয়েছে গায়ক রবি উইলিয়ামস, অভিনেতা টম ক্রুজ এবং গায়িকা নিকোল শেরজিঙ্গারের।

সুপার বোলের বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হাফটাইম শোর সঙ্গে পাল্লা দিতেই ফিফা এমন আয়োজন করছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

সম্প্রচার-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বিশাল মঞ্চায়নের কারণেই এবারের বিরতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘ হতে পারে। তেমনটি হলে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ বিশ্বকাপ ফাইনালগুলোর একটি দেখবে দর্শকরা।

এদিকে টুর্নামেন্টে প্রতিটি অর্ধে রাখা তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

সমালোচকদের একাংশের দাবি, খেলোয়াড়দের পানি পানের বিরতির আড়ালে সম্প্রচারে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

যদিও সমালোচনার মুখে ফিফা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয়োজনকে ‘যুগান্তকারী প্রদর্শনী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বিশ্বাস, ফুটবল, সংগীত এবং মানুষের অভিন্ন মূল্যবোধকে এক সুতোয় গেঁথে এমন এক অভিজ্ঞতা তৈরি করা হবে, যা ফাইনালের শেষ বাঁশির পরও দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন জায়গা করে নেবে।

ফিফার সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেছেন ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আইডেন্টিটি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল গিটজেনও।

তার মতে, হাফটাইম দীর্ঘ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তারা বিষয়টির বৃহত্তর দিকটি বিবেচনা করছেন না।

তিনি বলেন, ফুটবলের নিজস্ব নিয়ম ও ছন্দ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশ্বকাপের ফাইনাল কোনো সাধারণ ম্যাচ নয়। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হওয়া এই ম্যাচ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা একক ক্রীড়া আসরগুলোর অন্যতম। তাই এমন একটি আয়োজনকে সাপ্তাহিক লিগ ম্যাচের মতো করে দেখার সুযোগ নেই; বরং এর বিশেষত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছে ফিফা।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন