পানি নামলেই কৃষকদের ধানের চারা দেবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে কৃষি খাতের প্রধান সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। আমাদের এমন কিছু ধানের জাত রয়েছে, যা ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপণ করা যাবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব জাতের চারা উৎপাদন করা হবে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী চারা বিতরণ করা হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত অধিকাংশ এলাকায় এখনও ব্যাপকভাবে ধান রোপণের মৌসুম শুরু হয়নি। অল্প কিছু জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছিল। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বীজতলায়। ধান রোপণের জন্য বপন করা বীজ থেকে বিপুল পরিমাণ চারা গজিয়েছিল। বন্যার পানিতে ডুবে এসব কচি চারা প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন বয়সে বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলে জমিতে রোপণ করা হয়। এ সময় চারাগুলো খুবই কচি থাকে। একদিন পানির নিচে থাকলেও সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কয়েক দিনের বন্যায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ধানের চারার বড় সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক এলাকায় সংরক্ষিত খড় ভিজে নষ্ট হয়েছে অথবা পানিতে ভেসে গেছে। মাঠের ঘাস ও পশুখাদ্যের অন্যান্য উৎসও পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। এ কারণে গরু ও ছাগলের জন্য দ্রুত শুকনা গোখাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক মাছচাষি প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ও ঘেরের পাড় ডুবে বা ভেঙে যাওয়ায় চাষ করা মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের নতুন করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কে কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা মাঠপর্যায় থেকে যাচাই করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, খামারি ও মৎস্যজীবীদের সহযোগিতা করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আই/এ