খেলাধুলা

আট বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে মিলছে ম্যারাডোনার সেই ভবিষ্যদ্বাণী

ফুটবল শুধু মাঠের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলাটির বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। সেই বিতর্কের মধ্যেই আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। কয়েক বছর আগে করা তাঁর একটি মন্তব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের বাস্তবতায় নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে সম্প্রচারব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক বিরতি নিয়ে সমর্থকদের একাংশের সমালোচনার পর ম্যারাডোনার সেই পুরোনো মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত করার পরই এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ম্যারাডোনা। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল আয়োজনের ফলে খেলাটি ধীরে ধীরে অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের দিকে এগোতে পারে এবং এতে ফুটবলের ঐতিহ্যগত আবেগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সে সময় রসিকতার ভঙ্গিতে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, আমেরিকানরা চাইলে ফুটবলের প্রচলিত ৪৫ মিনিটের দুই অর্ধও বদলে দিতে পারে। তাঁর মন্তব্য ছিল, তারা হয়তো খেলাটিকে ২৫ মিনিট করে চারটি কোয়ার্টারে ভাগ করবে, যাতে মাঝখানে আরও বেশি বিরতি দেওয়া যায় এবং টেলিভিশনে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচার করে বিপুল অর্থ আয় করা সম্ভব হয়।

তখন অনেকেই এই মন্তব্যকে অতিরঞ্জিত বা আবেগপ্রসূত বলে মনে করেছিলেন। তবে চলমান বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা ম্যারাডোনার সেই মন্তব্যকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে ফিফা ম্যাচ চলাকালে হাইড্রেশন ব্রেক বা পানি পানের বিরতির ব্যবস্থা রেখেছে। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিরতিকে বড় পরিসরের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। খেলা বা বিশ্লেষণ দেখানোর পরিবর্তে ওই সময় দীর্ঘ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে, যা থেকে টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করছে।

এই পরিস্থিতির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষক ম্যারাডোনার পুরোনো সাক্ষাৎকারের অংশ শেয়ার করছেন। অনেকেই এটিকে তার দূরদর্শী পর্যবেক্ষণ বা এক ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, ফুটবলের ভেতরে কর্পোরেট বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান প্রভাব সম্পর্কে ম্যারাডোনা অনেক আগেই সতর্ক করেছিলেন।

তবে এ বিষয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। ফিফার হাইড্রেশন ব্রেক কোনো নতুন নিয়ম নয়। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় উচ্চ তাপমাত্রায় অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে এই বিরতির ব্যবস্থা আগের বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যদিও সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সময়কে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে বলেই আলোচনা তৈরি হয়েছে।

 সূত্র: গালফ নিউজ

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন