খেলাধুলা

ফিলিস্তিনিদের জন্য যার অনুভূতি নেই, সে মানুষ নয়: মিশরীয় কোচ

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মিশরের বিজয়ের পর হাসান ফিলিস্তিনের পতাকা ধরেছিলেন

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলেছে মিশর। সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষের নামের পাশে লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তি। তবে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ফুটবল নয়, মানবতার কথাই বেশি শোনা গেল মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের কণ্ঠে।

অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা গিয়েছিল তাকে। এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও তিনি ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন।

প্রায় চার মিনিটের বক্তব্যে গাজার মানবিক সংকট নিয়ে আবেগঘন ভাষায় কথা বলেন হোসাম হাসান। তার বক্তব্যের একপর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।

তিনি বলেন, “পৃথিবীতে যদি এমন কেউ থাকেন, যিনি ফিলিস্তিনের মানুষের কষ্ট অনুভব করেন না, তাহলে তিনি মানুষ নন—তিনি আরব, ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান যেই হোন না কেন।”

ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে নামার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি ছিল একজন মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

হোসাম হাসানের ভাষায়, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কোনো প্রাণীর ওপর নির্যাতন হলে তা নিয়ে সবাই সোচ্চার হয়। অথচ এমন এক সময় এসেছে, যখন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একদিনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর খবরও যেন অনেকের কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “ধর্মের আগে আমি একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমার একটাই বার্তা—ফিফা যেমন পারস্পরিক সম্মানের কথা বলে, তেমনি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারও সবাইকে সম্মান করতে হবে।”

চলমান বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সরব হতে দেখা গেছে। স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালও প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে আবেগঘন বার্তার পাশাপাশি সামনে অপেক্ষা করছে বড় এক পরীক্ষা। মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে মিশর। জিততে পারলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াই কঠিন হবে, সেটি স্বীকার করলেও আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই হোসাম হাসানের।

তিনি বলেন, “আমরা জানি, আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাই না।”

মিশর কোচের বিশ্বাস, তার দলের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, “আমার স্বপ্নের কোনো সীমা নেই, উচ্চাকাঙ্ক্ষারও সীমা নেই। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা কোনোভাবেই আন্ডারডগ নই। আমরা সাত হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এক সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করি।”

তিনি আরও বলেন, এই ম্যাচ শুধু মিসরের জন্য নয়; পুরো আরব বিশ্ব ও আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করারও একটি দায়িত্ব।

মাঠে তাই মেসিদের বিপক্ষে লড়াই হবে ইতিহাস গড়ার। আর মাঠের বাইরে হোসাম হাসানের বার্তা স্পষ্ট—ফুটবল শুধু ট্রফি জেতার খেলা নয়, মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোরও একটি শক্তিশালী মঞ্চ।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন