খেলাধুলা

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বিশ্বকাপ ঝড়, লাল কার্ড পেয়েও মাঠে নামছেন বালোগান

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই শুরুর আগেই মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার খবর সামনে আসতেই বিশ্ব ফুটবলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

রোববার (০৫ জুলাই) ফিফা এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে বালোগানের স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর না করে এক বছরের জন্য স্থগিত রাখে। ফলে সোমবার (৬ জুলাই) শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে কোনো বাধা থাকছে না ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, বালোগানের লাল কার্ডের ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘটনাটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এরপরই ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করে বিশেষ বিধান প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বালোগান। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে বিপজ্জনক ট্যাকলের অভিযোগে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এর ফলে পরের ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল।

তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি শৃঙ্খলাবিধির ২৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে সেই শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ লাল কার্ড বহাল থাকলেও শেষ ষোলোর ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। তবে আগামী এক বছরের মধ্যে একই ধরনের অপরাধ করলে এই স্থগিত শাস্তি নতুন শাস্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কার্যকর হবে।

ফিফার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএস সকার। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট এবং এখন পুরো মনোযোগ বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচ মরিসিও পোচেত্তিনোও সিদ্ধান্তটিকে ন্যায্য বলে মন্তব্য করেছেন।

তার দাবি, বসনিয়ার বিপক্ষে বালোগানকে লাল কার্ড দেখানোই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। তবে শাস্তি স্থগিতের প্রক্রিয়ায় তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

অন্যদিকে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, "সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এবং বড় একটি অন্যায় সংশোধন করার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ।"

তার এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে—ফিফার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না। কারণ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা রয়েছে।

ফিফার এই পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, সিদ্ধান্তটি বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি ফুটবলের ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টি নিয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপের বিষয়ও বিবেচনা করছে তারা।

বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়াও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "মনে হচ্ছে আজ ৫ জুলাই নয়, যেন ১ এপ্রিল—এপ্রিল ফুল দিবস চলছে।"

ফিফার এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন বলা হলেও এমন উদাহরণ এর আগেও রয়েছে। পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো একবার সহিংস আচরণের দায়ে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেলেও পরে ফিফা তার শেষ দুই ম্যাচের শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করেছিল। এবার একই বিধান প্রয়োগ করে বালোগানকেও গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে খেলার সুযোগ দিল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ফলে বেলজিয়াম-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্র এখন শুধু কৌশল, একাদশ কিংবা ফলাফল নয়; বরং ফুটবলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, ফিফার শৃঙ্খলাবিধি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্নও সমান গুরুত্ব পেয়ে গেছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বকাপে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বালোগানকে ঘিরে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন