বাংলাদেশ নাম শুনেই থামলেন মার্টিনেজ, বললেন ‘বাংলাদেশের ভক্তদের ভালোবাসি’
ফুটবলের মাঠে তিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। গোলপোস্টের নিচে তার ক্ষিপ্রতা আর সাহসের জন্য ভক্তরা তাকে ডাকেন ‘বাজপাখি’ নামে। কিন্তু বিশ্বকাপের উত্তেজনা, ব্যস্ততা আর হাজারো মানুষের ভিড়ের মাঝেও একটি শব্দই যেন থামিয়ে দিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে—‘বাংলাদেশ’।
কয়েক সেকেন্ডের সেই মুহূর্তেই আবারও ফুটে উঠল দুই দেশের মানুষের এক অদ্ভুত আবেগের সম্পর্ক। যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে গোল, ট্রফি কিংবা মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিয়ে নয়; বরং ভালোবাসা, সমর্থন আর ফুটবল পাগলামির এক অনন্য বন্ধনে।
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। ডালাসের স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়েরা যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন সাংবাদিকদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মার্টিনেজ।
হঠাৎ পেছন থেকে ভেসে আসে বাংলাদেশের নাম। শব্দটি কানে যেতেই থেমে যান তিনি। ফিরে তাকিয়ে হাসিমুখে জবাব দেন, ‘ওহ, বাংলাদেশ। আমি বাংলাদেশকে পছন্দ করি।’
এরপর বাংলাদেশের সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিতে বলা হলে আরও আবেগী হয়ে ওঠেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভক্তদের তিনি অনেক ভালোবাসেন। সেখানে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। জানান, দেশটির প্রতি তার রয়েছে বিশেষ টান।
আসলে এই গল্পের শুরু আরও আগে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বাংলাদেশের অলিগলি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানে ছিল নীল-সাদা পতাকার ঢেউ।
আর্জেন্টিনার মানুষও অবাক হয়েছিল বাংলাদেশের উন্মাদনা দেখে। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের একটি দেশের মানুষের এমন ভালোবাসা আর্জেন্টিনার ফুটবল মহলেও তৈরি করেছিল বিস্ময়। সেই বিশ্বকাপের পর দুই দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় এক আবেগী সেতুবন্ধন।
মার্টিনেজও সেই ভালোবাসা ভুলে যাননি। বাংলাদেশের মানুষ আবারও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের শেষ মঞ্চে দেখতে চায়—এ কথা শুনে তিনি বলেন, তিনি জানেন বাংলাদেশের সমর্থকেরা আর্জেন্টিনাকে কতটা ভালোবাসেন। তাদের সমর্থন তার কাছে বিশেষ কিছু।
বাংলাদেশি সমর্থকদের সঙ্গে আর্জেন্টাইনদের মিলও খুঁজে পেয়েছেন তিনি। তার মতে, আবেগ আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার জায়গায় দুই দেশের মানুষের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।
বিদায়ের আগে শেষবারের মতো বাংলাদেশের প্রতি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন মার্টিনেজ। হাসিমুখে বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য আমার অনেক, অনেক ভালোবাসা।’
একজন গোলরক্ষকের ছোট্ট কয়েকটি বাক্য হয়তো বড় কোনো ম্যাচের গোলের মতোই মনে গেঁথে গেছে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে। কারণ এই সম্পর্ক কেবল একটি দলের সমর্থনের গল্প নয়—এটি হাজারো মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি আর ভালোবাসার এক দূরত্ব পেরোনো গল্প।
এসি//