চালের বাজারে অস্থিরতা, কমেছে ডিম-মুরগির দাম
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে চালের দাম। তবে সবজি, পেঁয়াজ ও আলুর দাম আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই বেশি থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের বাজার বিশ্লেষণেও চালের দাম বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে চিকন চালের দাম ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। মাসখানেক আগে যে চিকন চাল সর্বনিম্ন ৭০ টাকায় নেমেছিল, তা এখন ৭২ টাকায় উঠেছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ভালো মানের চিকন চাল কিছুদিন আগে ৮০ থেকে ৮২ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
টিসিবির হিসাবে, মাঝারি মানের চালের দাম ২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে মাঝারি মানের চাল ৫২ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা এবং মোটা চাল ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুদি দোকানগুলোতে স্বর্ণা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ও মোজাম্মেল চাল ৮৫ টাকা, বিআর-২৮ ও পাইজাম চাল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ডালের বাজারেও আগের বাড়তি দাম বহাল রয়েছে। দেশি চিকন মসুর ডাল ১৬০ টাকা, বড় মসুর ডাল ১০০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সুপারশপে একই ধরনের ডাল ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে স্বতি ফিরেছে মুরগির বাজারে। বিক্রেতারা জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি নতুন কোনো কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। তাই ঈদের আগের তুলনায় এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। তাদের মতে, অন্যান্য বছর বাজেটের পর এসব পণ্যের দাম বাড়লেও এবার বাজারে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
বাজারভেদে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, সোনালি ও লেয়ার মুরগি ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডজনপ্রতি ডিমের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকা। কোথাও কোথাও ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস কেজি ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বকরির মাংস ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে বাজেট ঘোষণার পর বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই ২৬০ থেকে ৪৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং বোয়াল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম এখনও চড়া। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ও জাতভেদে চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহ ভালো থাকলেও দাম পুরোপুরি স্বস্তির জায়গায় আসেনি। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, লতি ৮০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা এবং জালি কুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি ২৫ টাকা। শাকের বাজারে লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ও লাউশাক ৩০ টাকা, কচুশাক ও কলমিশাক ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে।
মসলার বাজারে দেশি রসুন ১০০ টাকা, আমদানি করা বড় রসুন ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা জানান, বাজারে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই বেশি রয়েছে। আয় না বাড়লেও সংসার চালানোর খরচ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও সবজির দাম মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা জানান, বাজারে নতুন করে বড় ধরনের দাম না বাড়লেও বর্তমান উচ্চমূল্যেই সাধারণ মানুষের স্বস্তি নেই।
এমএ//