কক্সবাজারে দিনদুপুরে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি, ছুরিকাঘাতে আহত ১
কক্সবাজারের টেকনাফে দিনদুপুরে ব্যস্ত হাইওয়ে সড়কে পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী ডাকাতরা বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। এ সময় বআতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে তারা। ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে টেকনাফের দমদমিয়া সংলগ্ন ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত মো. আল আরমান (২৫) টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাকে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী পালকি পরিবহনের একটি বাস দমদমিয়া সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা একদল ডাকাত সড়কে পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে বাসটির গতিরোধ করে। বাসটি থামতেই তারা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে একে একে সবার কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতরা বিকাশের এজেন্ট বা কর্মীদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের অর্থ লুট করেছে বলেও এক যাত্রী দাবি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সড়কে ফেলে রাখা ব্যারিকেড অপসারণ করে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুরাইয়া জান্নাত জানান, আহত মো. আল আরমানের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। এ ঘটনায় একজন ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আই/এ