আইন-বিচার

শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার শুরু

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি বিশেষ নির্দেশনায় এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় দ্রুত ঘোষণার লক্ষ্যে মাত্র ১১০ দিনের (সাড়ে তিন মাস) মাথায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন।

বুধবার (১৭ জুন) থেকেই এই মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে।

ঝিনাইদহ আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোক্তার হোসেন বিচার শুরুর এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৬ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামানের আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন। এরপর মঙ্গলবার আদালতে সরকারের পক্ষে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আইনজীবী আকিলুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী তরিকুল আলমের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করার আদেশ দেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের মৃত শফি উদ্দীনের ছেলে এবং বাদেডিহি গ্রামে নিহত শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে বাদুরগাছা গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন আবু তাহের। এ সময় শিশুটি চিৎকার করতে গেলে আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দম আটকে মার যায় শিশুটি। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন তাহের। ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেলেও পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে ওই দিন মধ্যরাতেই কুষ্টিয়া শহরে ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহের তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ চাকরি করেন।

এদিকে আবু তাহেরের দ্রুততম সময়ে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা-মা।

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন