মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা সেই কিশোরীর সন্তান প্রসব, নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
নেত্রকোনায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা ১১বছরের সেই কিশোরী কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি ও তার নবজাতক সন্তান সিলেটের একটি সেফহোমে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার সিআইডি ল্যাব থেকে একটি দল ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আজ (৩১ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ নমুনা গত ১৭মে সংগ্রহ করা হয়েছিল। সিআইডি ল্যাবের পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মামলায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, গত ২ জুলাই শিশুটির প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাত ১২টার দিকে তিনি স্বাভাবিক উপায়ে কন্যা সন্তান প্রসব করেন। হাসপাতালে ৩ দিন পর্যবেক্ষনে রাখার পর মা ও শিশুকে সেফহোমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহায়তায় তার নিয়মিত তদারকি করা হয়। প্রসব ব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় ওই শিশুর স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়।
তবে প্রসবের পর মা ও শিশু দুজনের শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিভিল সার্জন বলেন, একটি ১১ বছরের শিশুর সন্তান প্রসব করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সিভিল সার্জন অফিসের একটি মেডিকেল টিম তাদের নিয়মিত শারীরিক তদারকি করছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। শিক্ষক সাগরের একাধিকবার ধর্ষণে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। আসামি গ্রেপ্তার হলে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ১২মে আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী শিশুটিকে সিলেটের একটি সেফহোমে পাঠানো হয়।
আই/এ