বিশ্বকাপে কুরাসাওকে ‘সেভেন আপ’ দিয়ে বরণ জার্মানির
জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এবারই প্রথম খেলার সুযোগ পেয়েছে ক্যারিবিয়ান সাগরের মাত্র ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ কুরাসাও। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার এই নবাগত দেশটিকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে একপ্রকার 'সেভেন আপ' খাইয়ে বরণ করে নিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুর্দান্ত জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল জার্মানরা। সর্বশেষ দুটি আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া জার্মানি এবার 'ই' গ্রুপে ফেবারিট হিসেবে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই ফ্লোরিয়ান ভির্টজের ছোট পাস থেকে ডান প্রান্তের এক দর্শনীয় শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ফেলিক্স এনমেচা। এই গোলের মাধ্যমে ২০১৪ বিশ্বকাপে ম্যাটস হামেলসের পর প্রথম জার্মান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেকেই গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি।
শুরুর ধাক্কা সামলে ২১ মিনিটে রূপকথার জন্ম দেয় কুরাসাও। দলটির তারকা খেলোয়াড় লোকাদিয়ার শট প্রথমে জার্মানির ডিফেন্ডার রুখে দিলেও বল চলে যায় লিভানো কোমেনেনসিয়ার কাছে। তার নেওয়া জোরালো বাঁ পায়ের শটটি জার্মান ডিফেন্ডার জশুয়া কিমিচের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়।
এই ঐতিহাসিক গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোল পাওয়ার পাশাপাশি ম্যাচে ১-১ সমতা আনে কুরাসাও।
গোল হজম করে কিছুটা ছন্দ হারালেও ৩৮ মিনিটে আবারও ম্যাচে ফেরে জার্মানি। ব্রাউনের নেওয়া কর্নার থেকে আনমার্কড ডিফেন্ডার শ্লটারবেক দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে পাঠালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১। এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+৩ মিনিট) কুরাসাওয়ের বক্সে ফেলিক্স এনমেচাকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন কাই হাভার্টজ।
দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানরা সম্পূর্ণ নিজেদের চেনা রূপে ফেরে। ৪৭ মিনিটে বায়ার্ন মিউনিখের দুই সতীর্থের রসায়নে আসে চতুর্থ গোল। জশুয়া কিমিচের পাস থেকে বক্সে বল পেয়ে দারুণ এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন জামাল মুসিয়ালা। এরপর ৬৮ মিনিটে উনদাভের নিখুঁত ফ্লিক পাস থেকে জোরালো শটে দলের পঞ্চম গোলটি করেন ব্রাউন।
৭৮ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে ব্যবধান ৬-১ করেন উনদাভ। হাভার্টজ ও কিমিচের সহায়তায় উনদাভের নেওয়া শটটি কুরাসাওয়ের লিয়ান্দ্রো বাকুনার গায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে। ম্যাচের শেষ দিকে, অর্থাৎ ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোলটি করেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ।
প্রথমার্ধে ৩টি এবং দ্বিতীয়ার্ধে ৪টি গোল করে ৭-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মানি, যা ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের জয়ের পর বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় জয়। ম্যাচটিতে বড় ব্যবধানে হারলেও, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জালে গোল করতে পারাটাই কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসে অমর এক রূপকথা হয়ে থাকবে।
আর/আই