ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৩, বাস্তুচ্যুত ৪১ হাজারের বেশি
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও উপকূলের কাছে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি আরও বেড়েছে। ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৫৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৭ জন। আহত হয়েছেন ৪৮৭ জন।
বুধবার (১০ জুন) দেশটির দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।
ফিলিপাইনের ফায়ার ব্যুরোর মুখপাত্র অ্যান্থনি অ্যারোইও জানান, এ পর্যন্ত ৫৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতদের কয়েকজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
এর আগে গেল ৭ জুন স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূলের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে মিন্দানাও অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক ভবন ধসে পড়ে, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং বেশ কয়েকটি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর অন্তত ১০টি ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সারাঙ্গানির নিউ আকলান এলাকায় বড় ধরনের ভূমিধসে ১৩ জন বাসিন্দা মাটিচাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একটি পুরো গ্রাম মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে বলেও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পে অবকাঠামোরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাবে ১৮টি সেতু, ৪১টি সড়ক ও ২৩৮টি সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু সড়ক এখনও চলাচলের অনুপযোগী রয়েছে।
এদিকে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। আফটারশকের ঝুঁকি ও ভবনের নিরাপত্তা শঙ্কায় কয়েকটি হাসপাতালে খোলা জায়গা ও অস্থায়ী তাঁবুতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ঘরবাড়ি।
ফিলিপাইনের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, দুর্যোগে ৬ হাজার ২২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৩২ লাখ শিক্ষার্থী এবং ১ লাখ ২৮ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মী প্রভাবিত হয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতোমধ্যে ৪৮ লাখ পেসোর (প্রায় ৯৬ লাখ টাকা) জরুরি সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এমএ//