ধর্ম

আরাফার দিনের আমল

জিলহজ মাসের নবম দিন, অর্থাৎ আরাফার দিন, ইসলামী শরিয়তে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাবান একটি দিন হিসেবে বিবেচিত। হজের মূল রুকনসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই দিনেই সম্পন্ন হয়। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মুসলিমদের জন্য এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখা হয়।

হাদিস অনুযায়ী, নবী করিম (সা.) আরাফার দিনকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই দিনে আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি দান করেন বলেও বর্ণিত হয়েছে।

ধর্মীয় আলেমদের মতে, এ দিনটি ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে পরিপূর্ণভাবে অতিবাহিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আরাফার দিনের প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর স্মরণে ব্যয় করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এই বিশেষ দিনের ফজিলত ও তাৎপর্যকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলও নির্ধারিত রয়েছে:

আরাফার দিনের রোজা রাখা

হজ পালনে যারা মিনা-আরাফার বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য আরাফার দিন রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আরাফার দিনের রোজা পূর্বের এক বছর এবং পরের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয় (সহিহ মুসলিম)। এই একদিনের রোজা একজন মুমিনের সারা বছরের গুনাহ মোচনের এক বিশাল সুযোগ।

তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা

জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর 'তাকবিরে তাশরিক' পাঠ করা ওয়াজিব। এটি এই দিনের অন্যতম বিশেষ আমল।

তাওবা ও ইস্তেগফার

আরাফার দিন হলো ক্ষমা প্রার্থনার দিন। এদিন শয়তান অত্যন্ত লাঞ্ছিত ও অপমানিত থাকে, কারণ, আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের ওপর অঝোর ধারায় রহমত ও মাগফিরাত বর্ষণ করেন। তাই ব্যক্তিগত ছোট-বড় সব গুনাহের জন্য কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত।

বেশি বেশি জিকির ও দোয়া

দোয়ার জন্য আরাফার দিনের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া। এ দিন নিচের দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা সুন্নাত:

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

দান-সদকা ও নফল ইবাদত

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয়। তাই ৯ জিলহজ সাধ্যমতো অভাবী মানুষকে সাহায্য করা, বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া এবং কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সময় কাটানো উচিত।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখা

আরাফার দিনে শুধু জিহ্বার জিকিরই নয়, বরং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও গুনাহ থেকে হেফাজত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনে চোখ, কান ও হাতসহ শরীরের সব অঙ্গকে সব ধরনের পাপ ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখা উচিত। যারা এই দিনে নিজেদেরকে গুনাহ থেকে সংযত রাখে, আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ দান করেন বলে বর্ণিত আছে।

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন