হরমুজ না খুললে হামলা, ট্রাম্পের হুমকিতেও অনড় ইরান
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে প্রণালি সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালাবে।
রোববার (০৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত এক পোস্টে ট্রাম্প এই সময়সীমার কথা উল্লেখ করেন।
পরে মার্কিন গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ইরান যদি অবস্থান না বদলায়, তবে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হবে। এর আগের দিনও একই ইস্যুতে কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে বদলে গেছে।
তারা আরও বলেছে, ‘নতুন ব্যবস্থা’ কার্যকর করতে সামরিক প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এরই মধ্যে ইরানের পার্লামেন্টে একটি খসড়া আইনে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট ব্যবহার করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর মিত্র দেশগুলোর চাপও বাড়ছে বলে জানা গেছে।