ইরানিদের হাতে পড়ার ভয়ে নিজেদেরই দুই বিমান ধ্বংস করলো মার্কিন বাহিনী
ইরানের ভেতরে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এক অভিযান চালিয়ে নিজেদের বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলট ও ক্রু সদস্যদের উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। সফলভাবে উদ্ধার সম্পন্ন হলেও অভিযানের পর পিছু হটার সময় নিজেদের দুটি শক্তিশালী পরিবহন বিমান ধ্বংস করে দিতে হয়েছে মার্কিন বাহিনীকে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকদিন আগে ইরানের দুর্গম একটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই বিমানের ওয়েপন সিস্টেম অফিসার এবং কর্নেল পদমর্যাদার এক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে উদ্ধারে কয়েকশ মার্কিন কমান্ডো এই অভিযানে অংশ নেয়।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ বাহিনী ইরানের একটি জনশূন্য দুর্গম অঞ্চলে গোপনে অস্থায়ী একটি রানওয়ে তৈরি করে। প্রথম ধাপে উদ্ধার কাজে দুটি পরিবহন বিমান পাঠানো হলেও প্রতিকূল পরিস্থিতি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সেগুলো সেখানে আটকে পড়ে এবং উড্ডয়ন অক্ষম হয়ে যায়।
পরবর্তীতে আটকে পড়া ক্রু ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের ফিরিয়ে আনতে আরও তিনটি পরিবহন বিমান পাঠানো হয়। তবে প্রথম দুটি বিমান নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো শত্রুর হাতে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন কমান্ডোরা।
এ সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি ছিল, কোনোভাবেই যেন উন্নত মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি প্রতিপক্ষের হাতে না পড়ে।
অন্যদিকে উদ্ধার করা ক্রু সদস্যকে ইরান থেকে সরিয়ে কুয়েতের একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
এই অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “আমরা তাকে উদ্ধার করেছি। গত কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইতিহাসের অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করেছে। আমাদের একজন অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।”
সামরিক বিশ্লেষকরা এই অভিযানকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের বড় ধরনের উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এমন অভিযান দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এসি//