আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মার্কিন শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য ‘বিনিয়োগ’: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ধরনের ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই সংঘাতকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা আমেরিকার জন্য আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার (০১ এপ্রিল) রাতে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন,এটি আপনাদের সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সত্যিকারের বিনিয়োগ। সারা বিশ্ব দেখছে এবং তারা এই শক্তি, সামর্থ্য ও মেধা উপেক্ষা করতে পারছে না। তারা যা দেখছে তা বিশ্বাসই করতে পারছে না।’

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই যুদ্ধের কোনো বিকল্প ছিল না।’

যদিও গত বছর তার নিজের গোয়েন্দা প্রধান স্বীকার করেছিলেন যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে না।

ভাষণে ট্রাম্প আরো বলেছেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের বিমানবাহিনী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, অধিকাংশ নেতা নিহত হয়েছেন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা সংকুচিত হয়ে এসেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বড় জয় পাচ্ছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার বাহিনী ইরানে বিধ্বংসী আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যখন থেকে বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করেছে, তার মাত্র এক মাস পার হয়েছে। এই চার সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, চূড়ান্ত ও অপ্রতিরোধ্য বিজয় অর্জন করেছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছে, এবং তাদের অস্ত্র কারখানা ও রকেট লঞ্চারগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে।’

ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি ইরানের প্রতি কঠোর না হলে তারা মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলকে এতদিনে শেষ করে দিত। তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে ২০১৫ সালে হওয়া বহুপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করার ফলে ইসরায়েল ও গোটা অঞ্চল ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। তা না হলে এতদিনে তারা গোটা অঞ্চলকে শেষ করে দিত।’

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি ইরানের জন্য বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রের এক বিশাল ভান্ডার তৈরির পথ প্রশস্ত করত বলে অভিযোগ করে ট্রাম্প বলেন, তারা বহু বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেয়ে যেত এবং সেগুলো ব্যবহার করতে শুরু করত।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আর তাহলে পৃথিবীটা অন্যরকম হতো। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য বা ইসরায়েল বলে কিছুর অস্তিত্ব থাকত না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে চুক্তির কথা উল্লেখ করছেন, সেই চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক কঠোর নজরদারির বিনিময়ে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করেছিল।

অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটেনি।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন