ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসার জন্য ট্রাম্পকে উপদেষ্টাদের পরামর্শ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে। এ তথ্য জানিয়েছে দি প্যালেস্টাইন ক্রনিকল।
ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা তাকে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার রূপরেখা বা ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ তৈরি করার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, অভিযান প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি।” তার বিশ্বাস, এই সংঘাত খুব শিগ্রই শেষ হবে।
তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা তাকে পরামর্শ দিয়েছেন জনসমক্ষে যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো সফলভাবে অর্জিত হয়েছে বলে তুলে ধরতে এবং সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি শুরু করতে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা চাইছেন, যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সঠিক সময়ে বের করে আনতে এবং সামরিক বাহিনী লক্ষ্য অর্জন করেছে এমন যুক্তি তুলে ধরতে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব।
তার বাহ্যিক বিষয়ক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুর বলেন, “গ্যাস ও তেলের দাম বেড়ে গেলে সবকিছুর দাম বাড়ে। যেহেতু সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগে থেকেই একটি ইস্যু, তাই এটি একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ।”
উপদেষ্টারা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এই অভিযানের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে যে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধী।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালীন হামলা চালানোর কারণে তেহরান ওয়াশিংটনের ওপর আর কোনো আস্থা রাখতে পারছে না।
সোমবার পিবিএস নিউজ আওয়ারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাঝপথে তারা আমাদের আক্রমণ করেছে। এ বছরও তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল হামলার ইচ্ছা নেই, কিন্তু তিন দফা আলোচনার পরও তারা আমাদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
আরাঘচি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে। তারা ভেবেছিল দুই-তিন দিনের মধ্যে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে পারবে, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানি সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, “ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি, কিন্তু শেষ করবে ইরানই।” তিনি আরও বলেন, যে কোনো মধ্যস্থতার লক্ষ্য হওয়া উচিত আগ্রাসন প্রতিরোধ, সাময়িক যুদ্ধবিরতির নয়।
মোহাজেরানি হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য একটি কৌশলগত সম্পদ। এই যুদ্ধে সমস্ত শক্তি বিনিয়োগ করা আমাদের জন্য স্বাভাবিক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মোজতবা খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করার ফলে ইরানে সংহতি ও জাতীয় ঐক্য শক্তিশালী হয়েছে এবং শত্রুদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।
এসি//