চলতি সপ্তাহেই হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: ট্রাম্প
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক উত্তেজনা স্থায়ীভাবে থামাতে চলতি সপ্তাহান্তেই একটি চুক্তি সই হতে পারে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে বড় ধরনের সমঝোতা হয়ে গেছে; এখন বাকি রয়েছে আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র চূড়ান্ত করার কাজ।
শুক্রবার (১২ জুন) তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ হতে পারে বলেও জানান তিনি।
চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইউরোপের কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি খুব দ্রুত হতে পারে, এমনকি সপ্তাহান্তেই চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানান ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াশিংটনে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় তিনি নিজে সেখানে যেতে পারবেন না বলেও জানান।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই সমঝোতায় অনুমোদন দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, তার জানা অনুযায়ী অনুমোদন মিলেছে।
জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর বার্ট জোনসের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-সমাবেশেও একই বক্তব্য দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে রাজি হয়েছে।
এর আগে ইরানকে ঘিরে আরও কঠোর ভাষায় কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। প্রয়োজন হলে ইরানে আরও শক্তিশালী হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এমনকি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের কথাও বলেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, চুক্তি সই হলে ওই ধরনের পদক্ষেপ আর বিবেচনায় থাকবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়ে যায়। এর জেরে ইরানের একাধিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
পাল্টা জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিসহ ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
এমএ//