আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটিতেও চমক দেখাল ডেমোক্র্যাটরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ক্যারোলাইনা। দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে প্রভাব ধরে রেখেছে দলটি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই সমীকরণ বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। তার জয় হলে ২৮ বছর পর অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসন ফিরে পাবে ডেমোক্র্যাটরা।

বুধবার (০৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমের পূর্বাভাসে এমন সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। ভোট গণনার ৮৯ শতাংশ শেষ হওয়ার পর অ্যানি অ্যান্ড্রুজ পেয়েছেন ৫০ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট। তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৯ লাখ ৪১ হাজার ৩৬৬ জন।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর ডারলিন গ্রাহাম পেয়েছেন ৮ লাখ ৭১ হাজার ৬৫ ভোট, যা মোট ভোটের ৪৭ দশমিক ০১ শতাংশ। তবে এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়নি।

পেশায় শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজের এই অবস্থানকে নির্বাচনের বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ১৭ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। এবার সেই অঙ্গরাজ্যেই ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান প্রার্থীকে পেছনে ফেলেছেন অ্যান্ড্রুজ। তার এই এগিয়ে থাকা ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য দীর্ঘ ২৮ বছর পর আসনটি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে নিজের ভাই ও দীর্ঘদিনের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর ওই আসনে নিয়োগ পান ডারলিন গ্রাহাম। পরে পূর্ণ মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে ভোটের লড়াইয়ে নামেন তিনি। তবে জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকার কথা স্বীকার করে প্রচারের সময় সমালোচনার মুখে পড়েন ডারলিন।

নির্বাচনী প্রচারে অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের হিসাবেও এগিয়ে ছিলেন অ্যান্ড্রুজ। তার প্রচারশিবির ২ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করে এবং ডারলিনের তুলনায় বেশি ব্যয় করে।

অন্যদিকে, আসনটি ধরে রাখতে রিপাবলিকানপন্থী বিভিন্ন সংগঠন প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ করে। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকেও প্রচারে ব্যয় করা হয় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

নির্বাচনী প্রচারে অ্যানি অ্যান্ড্রুজের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুযোগ বাড়ানো, সরকারি বিদ্যালয়ে বিনিয়োগ এবং বন্দুক সহিংসতা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া। এর আগে ২০২২ সালে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি তিনি। এবার সিনেট নির্বাচনে তার এগিয়ে থাকা দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #রিপাবলিকান #যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন #ডোনাল্ড ট্রাম্প