দেশজুড়ে

নির্মান কাজ বন্ধ থাকা অবস্থায় বীর নিবাস দখলের চেষ্টা, অনশনে ৮০ বছরের মুক্তিযোদ্ধা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া সরকারি বীর নিবাসের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে আছে ৭ মাস ধরে। এর মধ্যে পরিবার নিজের ওপর হামলা ও বসবাসের অস্থায়ী ঘর ভাঙচুরের অভিযোগে কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজহার উদ্দীন হাওলাদার ও তার পরিবার। প্রশাসনের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও নিরাপত্তা ও স্থায়ী আশ্রয়ের নিশ্চয়তা না পেয়ে ৮০ বছর বয়সে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবেশপথে আমরণ অনশনে বসেছেন তিনি।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে শুরু করা এই অনশন থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজহার আলী হাওলাদার (মুক্তিযোদ্ধা নম্বর- ৬০৩০১০১৫৬) জানাম, তিনি মেজর জলিলের অধীনে ১৯৭১ সালে  মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। জন্মস্থান বরিশাল হলেও পটুয়াখালীতে বেড়ে ওঠা এবং এখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ায় তিনি পটুয়াখালী জেলার তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।

২০০৯ সালে পাঁচ শতাংশ জমি বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পটুয়াখালী সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন আজহার আলী হাওলাদার। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিহীন হিসেবে পটুয়াখালী পৌর শহরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় তাঁকে তিন শতাংশ সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবার নিয়ে ওই জমিতে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ২০২৪ সালে একই জায়গায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বীর নিবাস বরাদ্দ পান।

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০২৫ সালে বীর নিবাসের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ হওয়ার পর ২০২৬ সালের মার্চ থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থায়নে শুরু হওয়া এই আবাসন প্রকল্প অসমাপ্ত পড়ে থাকলেও কাজ বন্ধের কারণ কিংবা পুনরায় নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

এদিকে বীর নিবাসের কাজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে বসতভিটা হারানোর শঙ্কা। আজহার আলী হাওলাদারের অভিযোগ, স্থানীয় কতিপয় দুর্বৃত্ত তাঁদের সরকারি বরাদ্দের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর পরিবারের সদস্যও তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং বসবাসের অস্থায়ী ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। এতে পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। একদিকে অসমাপ্ত সরকারি ঘর, অন্যদিকে বসবাসের অস্থায়ী আশ্রয়টুকুও হারিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাদের। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলাও দায়ের করেছেন তিনি।

আজহার আলী হাওলাদার আরও জানান, পরিবারের ওপর হামলা, অস্থায়ী ঘর ভাঙচুর এবং উচ্ছেদের চেষ্টার বিষয়ে তিনি একাধিকবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু বসতভিটায় নিরাপদে বসবাস এবং বীর নিবাসের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে কোনো কার্যকর নিশ্চয়তা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন।

এ অবস্থায় বীর নিবাসের নির্মাণকাজ কেন বন্ধ রয়েছে, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো গাফিলতি আছে কি না এবং অবশিষ্ট কাজ কবে শেষ হবে, তা তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

 

এ বিষয়ে পটুয়াখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু মুছা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আজহার হাওলাদারের জন্য বরাদ্দকৃত বীর নিবাসটির জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। নতুন ভাবে তাকে জমি বন্দোবস্ত দিয়ে বীর নিবাস তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। আগেই তাকে আমরা বলেছিলাম নতুন করে জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার আবেদন করতে কিন্তু তিনি তা এখনো করেননি।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #পটুয়াখালী #মুক্তিযোদ্ধা