দেশজুড়ে

মাটির প্রতিমায় ফুটছে দেবীর রূপ, দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে

বায়ান্ন প্রতিবেদন

শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ফরিদপুরের সদরপুরে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দুর্গোৎসবের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ততই বাড়ছে কর্মচাঞ্চল্য। প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে মণ্ডপ তৈরি, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পী ও কারিগররা।

সদরপুর পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৩৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হবে। এরই মধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে গেছে। কোথাও বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি শেষ হয়েছে, আবার কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ। কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমায় রং করা, পোশাক ও অলংকার পরানোসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও শুরু হয়েছে।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সেই সময়ের আগেই সব প্রস্তুতি শেষ করতে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পী ও কারিগররা।

সদরপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি কাঠামোর ওপর কয়েক ধাপে মাটি দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রতিমার অবয়ব। পাশাপাশি চলছে কারুকাজ, রং, পোশাক ও অলংকার পরানোর প্রস্তুতি। মৃৎশিল্পীদের দক্ষ হাতে কাঁচা মাটির অবয়ব ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিমার রূপ পাচ্ছে।

মৃৎশিল্পী সুজন পাল বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ কয়েকটি ধাপে শেষ করতে হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিমা তৈরি করতে চার থেকে পাঁচজন মৃৎশিল্পীর প্রায় সাত থেকে আট দিন সময় লাগে। প্রথমে বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর কয়েক স্তরে মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব গড়ে তোলা হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে শুরু হয় সূক্ষ্ম কারুকাজের কাজ। সবশেষে রং, পোশাক, অলংকারসহ বিভিন্ন সাজসজ্জা সম্পন্ন করা হয়।

সুজন পাল আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করতে এবার তাদের ব্যস্ততার মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে প্রতিটি ধাপেই বিশেষ যত্ন ও দক্ষতার প্রয়োজন।

এদিকে প্রতিমা নির্মাণের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। কোথাও বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, কোথাও চলছে সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। পাশাপাশি আলোকসজ্জার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

সদরপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নিলয় ভৌমিক বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপ নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ ভৌমিক বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করবে।

মৃৎশিল্পীদের হাতে মাটির অবয়ব ধীরে ধীরে প্রতিমার রূপ নিচ্ছে। পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে সদরপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। সব কাজ শেষ হলে আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের আবহে মুখর হয়ে উঠবে উপজেলার প্রায় ৩৮টি পূজামণ্ডপ।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #শারদীয় দুর্গাপূজা #প্রতিমা নির্মাণ