যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রতিনিয়ত মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। তবে গাজায় এখন নিহতদের দাফনের জন্য কবরের জায়গাও সংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অনেক কবরস্থান পূর্ণ হয়ে গেছে, আবার বেশ কিছু কবরস্থানও ধ্বংস হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরারএক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে গাজার দাফন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। হামলার ঝুঁকি এবং অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বহু নিহত ফিলিস্তিনিকে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অনেক মরদেহ বাড়ির আঙিনা, তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল ও হাসপাতালের প্রাঙ্গণে অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পর সহিংসতা কিছুটা কমলে ধ্বংসস্তূপ ও অস্থায়ী কবর থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থায়ীভাবে দাফনের উদ্যোগ নেন পরিবারের সদস্যরা। গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোর সাতটি গণকবর থেকে এখন পর্যন্ত ৫২৯ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু বিপুলসংখ্যক নিহতের কারণেই কবরস্থানের সংকট তৈরি হয়নি। যুদ্ধের সময় ইসরাইলি হামলায় গাজার ৪০টির বেশি কবরস্থানও ধ্বংস হয়েছে বলে ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য জানিয়েছে।
এছাড়া ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে কবরস্থানে প্রবেশও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়ের প্রয়োজন মেটাতে কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত কিছু জায়গাও অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গাজার ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইকরামি আল-মাদালাল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই গাজার প্রায় ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এখন নতুন কবরস্থান তৈরির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এর সঙ্গে বেড়েছে দাফনের খরচও। উপকরণের সংকটের কারণে বর্তমানে একটি কবর তৈরিতে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার শেকেল পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। স্থায়ী কবরফলক তৈরি করা সম্ভব না হলে ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর, কাদা বা টিন দিয়ে অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে।
খান ইউনিস কবরস্থানের কবর খননকারী তাফেশ আবু হাতাব গত ১৯ বছর ধরে এই কাজ করছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে ওই কবরস্থানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। যুদ্ধের এক পর্যায়ে তাকে দিনে ৩৫টি পর্যন্ত কবরও প্রস্তুত করতে হয়েছে।
তিনি জানান, যুদ্ধের সময় প্রতিদিনই কয়েক ডজন মরদেহ দাফন করতে হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও ছিল অনেক। কখনো একটি ভবন, গাড়ি বা তাঁবুতে হামলার পর একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মরদেহ একসঙ্গে কবরস্থানে নিয়ে আসতে হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গাজায় এখন শুধু জীবিত মানুষের আশ্রয় ও চিকিৎসার সংকটই নয়, নিহতদের শেষ ঠিকানা দেওয়ার জায়গাটিও ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।