কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে দুই পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলা এঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে পেকুয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পেকুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো. মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খবর পেয়ে পেকুয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী রেজাউল করিম জানান, রাতে মোটরসাইকেল দেখতে বের হয়ে পাশের একটি দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলেন। রাত ৩টার দিকে একটি সাদা হাইয়েস মাইক্রোবাস দ্রুত চলে যেতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর ৩-৪ জন অপরিচিত ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চেয়ে অস্ত্রের মুখে তাকে ও আরও দুজনকে একটি ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তাকে জিম্মি করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সোলতানা কাজল বলেন, ডাকাতরা পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালায়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালালেও বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকা স্বজনরা কিছুই টের পাননি। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর তাদের চিৎকার শুনে নিচে নেমে আসেন।
সৌদি প্রবাসী জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ডাকাতরা তার গলার চেইন ও কানের দুল খুলে নেয়। পরে আলমারির তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা তামিম হোছাইন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। এর আগে পাশের একটি বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে ছয়টি গরু লুটের ঘটনাও ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
আই/এ