খেলাধুলা

প্রতিটি গোলের পর আকাশের দিকে কেন তাকান মেসি?

স্পোর্টস ডেস্ক

গোল করার পর লিওনেল মেসির উদযাপন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরিচিত দৃশ্য। বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুই হাতের তর্জনী আকাশের দিকে তুলে কিছুক্ষণ নীরবে তাকিয়ে থাকেন তিনি। কোটি কোটি দর্শকের কাছে এটি একটি স্বাক্ষর উদযাপন হলেও, মেসির কাছে এটি শুধুই আনন্দ প্রকাশ নয়—এটি গভীর ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা এবং স্মৃতির এক নীরব ভাষা।

এই উদযাপন উৎসর্গ করা হয় এমন একজন মানুষকে, যিনি হয়তো না থাকলে আজকের লিওনেল মেসিকে পৃথিবী চিনতেই পারত না। তিনি মেসির নানি, সেলিয়া অলিভেরা কুচ্চিত্তিনি।

মেসির জীবনের সবচেয়ে বড় সমর্থকদের একজন ছিলেন সেলিয়া। ছোট্ট লিও যখন মাত্র পাঁচ বছরের শিশু, তখনই তিনিই প্রথম বুঝেছিলেন নাতির অসাধারণ ফুটবল প্রতিভা। শুধু বিশ্বাসই করেননি, সেই প্রতিভাকে সবার সামনে তুলে ধরতেও সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

রোজারিও শহরের গ্রান্দোলি ক্লাবে বড় ভাইয়ের খেলা দেখতে গিয়েছিলেন ছোট্ট মেসি। সেদিন একটি ম্যাচে খেলোয়াড়ের ঘাটতি দেখা দিলে সুযোগটি লুফে নেন তার নানি। কোচ সালভাদর আপারিসিওকে অনুরোধ করেন, লিওকে মাঠে নামানোর জন্য।

প্রথমে রাজি হননি কোচ। বয়সে অনেক ছোট হওয়ায় আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সেলিয়া নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, এই শিশুর মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। শেষ পর্যন্ত নানির জোরালো অনুরোধেই মাঠে নামার সুযোগ পান ছোট্ট লিও।

আর সেই সুযোগই বদলে দেয় সবকিছু।

বয়সে অনেক বড় ছেলেদের বিপক্ষেও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান মেসি। বল নিয়ন্ত্রণ, গতি আর আত্মবিশ্বাসে সবাইকে অবাক করে ম্যাচেই করেন দুটি গোল। উপস্থিত সবাই বুঝতে পারেন, এক অসাধারণ প্রতিভার জন্ম হচ্ছে।

মেসি পরে এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই ম্যাচের পর তার নানি কোচকে বলেছিলেন, "মেসির জন্য একটি বুট কিনে দিন। আগামী সপ্তাহ থেকেই আমি ওকে নিয়মিত অনুশীলনে নিয়ে আসব।"

সেই একটি বাক্যই যেন হয়ে ওঠে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস বদলে দেওয়ার সূচনা।

সময় গড়িয়েছে। ছোট্ট লিও আজ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ক্যারিয়ারে ৯০০-এর বেশি গোল, অসংখ্য ক্লাব শিরোপা, একাধিক ব্যালন ডি'অর এবং আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর গৌরব—অর্জনের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। কিন্তু সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে উঠেও তিনি ভুলে যাননি সেই মানুষটিকে, যিনি সবার আগে তাঁর স্বপ্নে বিশ্বাস রেখেছিলেন।

এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই বলেছেন, তিনি তার প্রতিটি গোল এবং প্রতিটি জয় নানিকেই উৎসর্গ করেন। কারণ তিনিই প্রথম বিশ্বাস করেছিলেন ছোট্ট লিও একদিন অনেক দূর যাবে।

তাই গোলের পর যখন মেসি আকাশের দিকে তাকিয়ে দুই হাত উঁচু করেন, সেটি কেবল একটি উদযাপন নয়। সেটি একজন নাতির নীরব শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার প্রকাশ—যে ভালোবাসা সময়কে অতিক্রম করেছে।

ফুটবল বিশ্ব মেসির গোল দেখে মুগ্ধ হয়, আর মেসি প্রতিটি গোলের মধ্য দিয়ে মনে করেন সেই মানুষটিকে, যিনি প্রথম বলেছিলেন—এই ছেলেটি একদিন বিশ্বকে চমকে দেবে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #লিওনেল মেসি #গোল #আর্জেন্টিনা