উজান থেকে আসা ঢল ও সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারীও রংপুর জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
রোববার (২১ জুন) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাসের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রক্ষ্মপুত্র, সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যা আগামী তিনদন বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। যা এসব এলাকার নদী সংলগ্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থতির সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমানে এসব নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি সকাল ৬টায় ছিল ২৪ দশমিক ২ মিটার। তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তা বেড়ে সকাল ৯টায় ২৪ দশমিক ৫ মিটারে পৌঁছেছে। এ পয়েন্টে নদীর বিপৎসীমা ২৬ দশমিক ৫ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় এ এলাকায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ধরলা নদীর তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানির উচ্চতা কিছুটা কমেছে।
সকাল ৬টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৭৮ মিটার, যা সকাল ৯টায় কমে ২৯ দশমিক ৭৫ মিটারে নেমে আসে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার।
পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি সকাল ৬টায় ২৮ দশমিক ৩৫ মিটার থেকে বেড়ে সকাল ৯টায় ২৮ দশমিক ৩৯ মিটারে দাঁড়িয়েছে। এ নদীর বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার।
পাটেশ্বরী এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি সকাল ৬টায় ২৩ দশমিক ৭৬ মিটার থাকলেও সকাল ৯টায় তা বেড়ে ২৩ দশমিক ৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক ০৫ মিটার।
এদিকে চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সকাল ৬টায় ২১ দশমিক ৪০ মিটার থেকে বেড়ে সকাল ৯টায় ২১ দশমিক ৪১ মিটারে পৌঁছেছে। এখানে বিপৎসীমা ২৩ দশমিক ২৫ মিটার। তবে এ এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি।
অন্যদিকে, কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সামান্য কমেছে। সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৫০ মিটার, যা সকাল ৯টায় কমে ২৯ দশমিক ৩০ মিটারে নেমে এসেছে।
এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধান নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যদিও এখনো সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চরসোনাইকাজী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ধরলা নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ধরলা নদীর তালুক শিমুলবাড়ী (ফুলবাড়ী ধরলা সেতু) পয়েন্টে পানির উচ্চতা সামান্য কমেছে।
আজ সকাল ৬টায় তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৭৮ মিটার, যা সকাল ৯টায় কমে ২৯ দশমিক ৭৫ মিটারে নেমে আসে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার।
বিকাল ৩ টায় শিমুলবাড়ী পয়েন্ট পানি সমতল ২৯.৬৮ মিটার, (বিপদসীমা = ৩০.৮৭ মিটার যা বিপদসীমার ১১৯ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে আবার কখনো কমছে। তবে গতকালের চেয়ে বরিবার বারোমাসিয়া নদীর পানি কমে যাওয়ায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্ধী পাট ও ভুট্টা ক্ষেতের পানি নেমে যাচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।
ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ধরলা নদীর তীরবর্তী চরসোনাইকাজী এলাকার বাসিন্দা জহুরুল হক ও ওবায়দুল হক জানান, গত চার দিন ধরে নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আমন ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই এলাকার কৃষক জরিতুল্লা আলী বলেন, “ধরলার পানি বৃদ্ধির কারণে আমার আমনের বীজতলা ও পাটক্ষেত ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে আমন চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া পানি আরও বাড়লে বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
আই/এ