রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় যখন সারাদেশে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় নিজের সঙ্গে ঘটা ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার কথা আজ (২২ মে) নিজের ফেসবুকে একটি পোষ্টের মাধ্যমে প্রকাশ করলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী ফারিন খান।
বায়ান্ন টিভির পাঠকদের জন্য ফারিনের ফেসবুক পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো -
১৩ তারিখ জামালপুর যাচ্ছিলাম আনুমানিক রাত ৩ঃ১৫ বাধ্য হয়েই একটা পেট্রোল পাম্পের washroom এ যাই যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমার কেন যেন মনে হলো পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে পরক্ষণে তাকিয়ে দেখলাম দুটো হাত ভেন্টিলেটর দিয়ে ঠিক আমার গলার কাছে,হয়তো আমি সময় মত চিৎকার না দিলে আমাকে মেরে ফেলে সব লুটপাট করে তারপর ধর্ষনের চেষ্টা করতো। আমি খুব সাহসীকতার সাথে চেঁচামেচি করে বেরিয়ে আসি এবং আমার ড্রাইভার আমার চিৎকার শুনেই এগিয়ে এসে লোকটাকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে যায়,এবং ড্রাইভার কে জিজ্ঞেস করলে সে বলে লোকটা অনেক গুলো ডিমের খোসা নিয়ে ওয়াশরুম এর পেছনে যাচ্ছিল। আপনি ওয়াশরুম এ ঢোকার পরেই আমি ভাবছিলাম হয়তো ময়লা ফেলতে যাচ্ছে তাই কিছু বলিনি আপনার চিৎকার শুনে বের হয়েছি __
উপরের উপরে সাহস দেখালেও আমি জানি ভেতরে ভেতরে কত টা ভয় আমি পেয়েছিলাম এবং পরের দিন সকাল এ শুটিং ইউনিট এর অনেককেই বেপার টা শেয়ারও করেছিলাম এর থেকে বিশ্রী অভিজ্ঞতা আর কিছু হতে পারে না।
বিষয়টা ভেবেছিলাম কাউকে বলে আর কী হবে হয়তো আল্লাহ আমাকে সেদিন রক্ষা করেছেন কিন্তু মানসিকভাবে আমি,যে কী পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি কতটা খারাপ লাগা কাজ করেছে এবং কী পরিমাণ চাপা যন্ত্রণা অনুভব করেছি সেটা শুধু মাত্র আমি জানি।
আমরা যে সব মেয়েরা বাইরে কাজ করি আমরা জানি কত কত এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হয় তবে এই দেশে সত্যিই মেয়েরা নিরাপদ না ,,,
“”যে দেশে আমাকে আমার পোশাক দিয়ে বিচার করা হয় সে দেশে আসলে ধর্ষনের মতো আচরণ শুধুই মেয়েদের দোষ, যার বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমন কোনো বিচার কখনো হয়নি যেটার ভয়ে এসব বন্ধ হবে॥
পি/ডি