জন্মের সময় ওজন ছিল মাত্র আড়াই কেজি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই স্বাভাবিক ওজনই যেন ছোট্ট আরাফাতের জীবনে পরিণত হয়েছে এক কঠিন বাস্তবতায়। নওগাঁর পত্নীতলার এই শিশুর বয়স এখন মাত্র ৪ বছর ৮ মাস, অথচ তার বর্তমান ওজন ৫২ কেজি—যা অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওজনের কাছাকাছি। যেখানে এই বয়সী শিশুদের স্বাভাবিক ওজন সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ কেজির মধ্যে থাকে, সেখানে অতিরিক্ত ওজনের কারণে আরাফাত এখন স্বাভাবিক শৈশব থেকে অনেকটাই দূরে, বেশিরভাগ সময় কাটছে ঘরের এক কোণেই।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মের পর প্রথম দুই থেকে তিন মাস সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। তবে এরপর থেকেই অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে তার ওজন। শুরুতে বাবা-মা মনে করেছিলেন, সন্তান হয়তো ভালোই বেড়ে উঠছে। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই যখন ওজন ১২ কেজি ছাড়িয়ে যায়, তখন উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের।
পরবর্তীতে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হলে তারা জানান, এটি সাধারণ মোটা হয়ে যাওয়ার ঘটনা নয়। আরাফাতের শরীরে গ্রোথ হরমোনজনিত জটিল সমস্যার কারণেই এমন অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি ঘটছে।
আরাফাত জানায়, সে একটু হেঁটে সমনে গেলে হাঁপিয়ে ওঠে। তার শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা হয়। তাই বাড়ি ও সামনের পুকুর ঘাট ছাড়া সে আর কোথাও যেতে পারে না। তার প্রিয় খাবার কাচ্চি বিরিয়ানি। তাকে কেউ দেখতে এলে খাবার নিয়ে আসে। সে খেতে খুব ভালোবাসে।
কিন্তু এমন অস্বাভাবিক নয়, সবার মতো আরাফাত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়।

আরাফাতের বাবা আবু সাঈদ পেশায় একজন দিনমজুর এবং মা আখতার বানু গৃহিণী। টানাপোড়েনের সংসারে ছেলের চিকিৎসার খরচ চালানো তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
মা আখতার বানু আক্ষেপ করে বলেন, ‘ছেলেটা যা খায় তাতেই যেন ওজন বেড়ে যায়। এখন তো ও ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না। ডাক্তার বলেছে প্রতি মাসে দুটি দামি ইনজেকশন দিতে হবে, কিন্তু আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা পাব কোথায়?’
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আরাফাতকে সুস্থ করতে প্রতি মাসে দুটি বিশেষ ইনজেকশন দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মাসে চিকিৎসার পেছনে ১৭ হাজার টাকা খরচ করা অসহায় এই পরিবারের পক্ষে পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, শিশুটির শরীরে গ্রোথ হরমোন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি নিঃসরণ হচ্ছে। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা করালে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব। এই চিকিৎসার ব্যবস্থা বাংলাদেশেই রয়েছে, তবে তা ব্যয়বহুল।