সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতের তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয়। রোববার (১০ মে) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তামিল ভাষায় শপথ নেন তিনি। শপথ নেওয়ার সময় “আমি শ্রী জোসেফ বিজয়” বলতেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম’ ও ভারতের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। কালো ট্রাউজার, সাদা শার্ট ও কালো ব্লেজারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন বিজয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর. এন. রবিকে স্বাগত জানান তিনি নিজেই।
বিজয়ের সঙ্গে একই দিনে আরও নয়জন মন্ত্রী শপথ নেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক আনন্দ, নির্বাচনী কৌশলবিদ আধব অর্জুন, বিজেপি ছেড়ে তামিলাগা ভেত্রি কাজাখামে যোগ দেওয়া নির্মল কুমার এবং চিকিৎসক অরুণ রাজ। এছাড়া সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন অভিনেতা রাজ মোহন ও চিকিৎসক টি. কে. প্রভু।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাখাম (টিভিকে) ১০৮টি আসনে জয় পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ আসন।
পরে কংগ্রেসের সমর্থনে টিভিকের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৩-তে। এরপর সিপিআই ও সিপিএমের চার বিধায়কের সমর্থন পেয়ে তা বেড়ে হয় ১১৭। সবশেষে ভিসিকে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) সমর্থনে ১২০ বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত হয় বিজয়ের পক্ষে।
সরকার গঠনের আগে গেল পাঁচ দিনে চারবার রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। জোট আলোচনা, রাজনৈতিক দরকষাকষি ও নানা নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের পথ সুগম হয় তার জন্য।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পর রাজনীতিতে নেমে প্রথম বড় পরীক্ষাতেই সফল হলেন বিজয়। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ— জনপ্রিয়তাকে কার্যকর প্রশাসনিক সফলতায় রূপ দেওয়া।
এমএ//