কখনও কখনও আদালতের কাঠগড়ায় এমন কিছু ঘটনা উঠে আসে, যা শুনলে বাস্তবের চেয়ে গল্প বলেই বেশি মনে হয়। ভারতের মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র বেঞ্চে তেমনই এক অদ্ভুত পারিবারিক মামলা ঘিরে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, যেখানে দুই সহোদর বোন নিজেদের স্বামী পরিবর্তনের আবেদন নিয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত একটি হেবিয়াস কর্পাস মামলার মাধ্যমে। দতিয়ার এলাকার এক ব্যক্তি আদালতে অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ও কন্যাকে তার ভায়রাভাই অপহরণ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেয় অভিযুক্তসহ কথিত অপহৃতদের আদালতে হাজির করার জন্য।
পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে এক নারী জানান, তিনি কোনো অপহরণের শিকার নন, বরং নিজের ইচ্ছাতেই বোনের স্বামীর সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং এখন তার সঙ্গেই থাকতে চান। তিনি আরও জানান, তার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নেই এবং তিনি ইতোমধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, অপর বোনও আদালতে একই ধরনের অবস্থান জানান। তিনি বলেন, তিনি নিজের স্বামীর সঙ্গে আর থাকতে চান না এবং বোনের স্বামীর সঙ্গেই জীবন কাটাতে ইচ্ছুক। আদালতে উপস্থিত দুই বোনই একে অপরের স্বামী পরিবর্তনের বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেন।
যেহেতু মামলায় জড়িত সবাই প্রাপ্তবয়স্ক, তাই বিচারপতি মন্তব্য করেন, বিষয়টি কোনো অপহরণের ফৌজদারি ঘটনা নয়, বরং এটি পারিবারিক বিরোধের অংশ। আদালত তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর পরামর্শ দেয়।
শেষ পর্যন্ত হেবিয়াস কর্পাস মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা প্রতিক্রিয়া।
এসি//