তীব্র দাবদাহে পুড়ছে রাজশাহী। তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে স্থবির। খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে। বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর ও নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ করতে হচ্ছে প্রখর রোদে, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বুধবার (২২এপ্রিল) বিকেল ৩টায় রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। যা এ মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একই দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন বিকেল ৩টায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা নেমে আসে ২৯ শতাংশ। ফলে গরমের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হয়। তবে বৃষ্টি না হলে রাজশাহীতে স্বস্তি মিলবে না বলেও আবহাওয়া অফিস ধারণা করছে।
এদিকে প্রখর রোদ ও গরমের কারণে ঘরে বাইরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। লোকজন অতি প্রয়োজন ছাড়া বেলা ১১ টার পর বাইরে বের হচ্ছেন না। আবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর লোকজন বাইরে বের হচ্ছেন। এছাড়াও দুপুরের দিকে নগরীর রাস্তা-ঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। শুধু শহর নয়, গ্রামেও তীব্র গরম ও প্রখর রোদের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে মানুষসহ প্রাণীকুল। দুপুরের দিকে গ্রামের রাস্তাগুলোতে যানরবাহনের দেখা মিলছে না। লোকজন ১১টার মধ্যে মাঠে-ঘাটে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছেন। তবে গরমের কারণে শ্রমিক, দিন মজুর শ্রেণির মানুষের আয় কমে অর্ধেকে এসেছে। এতে তারা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, গত ২০ এপ্রিল ছিল সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি। এছাড়া ২১ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৩ ডিগ্রি বেড়েছে। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অপরিবর্তিত রয়েছে।
ব্যাটারি চালিত অটো রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন জানান, 'সড়কে মানুষের উপস্থিতি কম। পাকা সড়কে রোদের মধ্যে রিকশা চালানো যাচ্ছে না। একদিকে গরম, অন্যদিকে রোদ। সব মিলিয়ে সড়কে টেকা যাচ্ছে না। অলস সময় কাটাচ্ছি'।
অটোচালক সুমন বলেন, গত কয়েকদিনের চেয়ে আজ গরম ও রোদ অনেক বেশি। সকালে বের হয়েছি, এরপর ১১টা বাজার পর আর বাইরে থাকতে পারিনি। আবার বিকেল চারটায় বের হয়েও তেমন যাচ্ছি মিলছে না। এতে আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ অবস্থা চলছে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকেল ৩টায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বিশেষ করে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সাথে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও অনেক উপরে উঠে গেছে। যার কারণে গরম বেশি অনুভুত হচ্ছে। গত দুই দিন তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়ার মধ্যে ধাতলেও হঠাৎ করেই তা বেড়ে গেছে।
আই/এ