যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় তেহরান—এমনই কড়া বার্তা দিল ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ কতদিন চলবে সেটি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়; লক্ষ্য পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন জবাব দেয়াই এখন প্রধান উদ্দেশ্য।
ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং ‘খতমে আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের ডেপুটি কমান্ডার কিউমার্স হায়দারি বুধবার (০৪ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই সংঘাতের সময়সীমা নিয়ে তেহরানের কোনো উদ্বেগ নেই।
আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য- নিজেদের নির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্জন এবং ওয়াশিংটনকে কঠোর বার্তা দেয়া।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, দীর্ঘ যুদ্ধ লড়ার অভিজ্ঞতা ইরানের নতুন নয়।ইরাক–ইরান সংঘাতের সময় টানা আট বছর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশটির।
তার ভাষায়, যতক্ষণ না লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে যথাযথ শিক্ষা দেয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সংঘাত থামার সম্ভাবনা নেই।
বর্তমান এই সংঘাতের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ কূটনৈতিক অচলাবস্থা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আলোচনা চললেও ২৭ ফেব্রুয়ারি তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এর ঠিক পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতি দ্রুত সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযান শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে, আর একই সময়ে ইসরায়েল চালু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’।
যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে এসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের সংঘাতে ইরানে অন্তত এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল হায়দারির বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইরান এই লড়াইকে স্বল্পমেয়াদি সংঘাত হিসেবে দেখছে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েই তারা এগোচ্ছে।
এসি//