নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হত্যার সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সম্প্রতি প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) এ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়, টিআইবি তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনের মধ্যে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছেন। তবে এ সংখ্যা যথাযথ যাচাই ছাড়াই প্রচারিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়কালে মাত্র পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যেখানে তাকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
সরকারের বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয় এবং ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ছিল বিশেষভাবে নির্মম। এই হত্যার উদ্দেশ্য ছিল এক তরুণ রাজনৈতিক নেতাকে দমিয়ে দেয়া এবং সংবেদনশীল সময়ে ভীতি সৃষ্টি করা। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি; দেশের পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়নি এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়নি।
ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, টিআইবির প্রতিবেদনে প্রেক্ষাপটের ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সহিংসতার ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়—২০২৪ সালের নির্বাচনে ছয়জন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ২২ জন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে অন্তত ১১৫ জন নিহত হন। সে তুলনায় বর্তমান প্রাক-নির্বাচনি সময়কে চরম নিরাপত্তা অবনতির উদাহরণ বলা কঠিন।
সরকার জানায়, টিআইবি ও সরকারি তথ্যের পার্থক্য তথ্য গোপনের কারণে নয়; বরং গণনার পদ্ধতিগত ভিন্নতার ফল। টিআইবি যে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাসম্পন্ন ব্যক্তির মৃত্যুকে নির্বাচনকালীন হত্যার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যদিও সব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রমাণিত নয়। সরকার কেবল সেই ঘটনাগুলো গণনায় রেখেছে, যেগুলোর সঙ্গে সরাসরি নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার স্বীকার করে, সার্বিক নিরাপত্তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবিত পুলিশিং ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ বা বরখাস্ত, বিশেষ ইউনিটের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন, জোরপূর্বক গুম ও নির্যাতনের মামলায় আইনগত ব্যবস্থা এবং সমাবেশ ও নির্বাচনি সময়ের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।
ব্যাখ্যায় আরও দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি, যেমন ওসমান হাদির শেষকৃত্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালিদা জিয়ার দাফন এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন—শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংযম ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ।
অন্তর্বর্তী সরকার আরও জনায়, সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হলেও বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের সঙ্গে তুলনীয় নয়। নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
এমএ//