আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ডে আজ আগাম নির্বাচন ও গণভোট

থাইল্যান্ডে আজ রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে গণভোটও নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের সমর্থন পাওয়ার এই লড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী প্রবণতার প্রেক্ষাপটে।

যদিও নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, বাস্তবে দেশজুড়ে সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছে তিনটি দল—পিপলস পার্টি, ভূমজাইথাই ও ফেউ থাই। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত এ তিন দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গেল বছরের মে মাসে প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে থাইল্যান্ডের সীমান্ত উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। সে সময় কম্বোডিয়ার হামলায় সীমান্তে এক থাই সেনা নিহত হন।

জুনে পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা কম্বোডিয়ার নেতা হুন সেনকে ফোন করেন। আলোচনার আহ্বান জানাতে গিয়ে ওই ফোনালাপে তিনি হুন সেনকে ‘আংকেল’ বলে সম্বোধন করেন এবং নিজ দেশের সেনাবাহিনী সম্পর্কেও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে সেই ফোনালাপ ফাঁস হয়ে গেলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।

এ ঘটনার জেরে তার দল ফিউ থাই পার্টির প্রধান জোটসঙ্গী ভূমজাইথাই পার্টি জোট ত্যাগের ঘোষণা দেয়। ফলে সরকার টিকে থাকলেও রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

আগস্ট ২০২৫-এ থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত রায় দেন, প্রধানমন্ত্রী নৈতিকতা লঙ্ঘন করেছেন। এর ফলে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।

পরবর্তী সময়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সংসদের দ্বিতীয় বৃহৎ দল ভূমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল প্রোগ্রেসিভ পিপলস পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে তাকে শর্ত দেওয়া হয় সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

অবশেষে ডিসেম্বর ২০২৫-এ শর্ত অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে নতুন সাধারণ নির্বাচনের পথ তৈরি হয় এবং আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেই আগাম নির্বাচন।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #থাইল্যান্ড #গণভোট #নির্বাচন