আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ‘নতুন প্রেম’ নিয়ে গুঞ্জনে বিরক্ত মেলানিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারী নাটালি হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক নানা জল্পনা-কল্পনায় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিরক্ত ও হতাশ বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার পরই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

গত রোববার (১৬ আগস্ট) মার্কিন সিনেটর জন অসফ এক বক্তব্যে ট্রাম্প ও নাটালি হার্পকে নিয়ে রসিকতা করেন।

ডেমোক্র্যাট এই সিনেটরের দাবি, ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প ৩৫ বছর বয়সী হার্পের প্রতি এমনভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, যা তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলছে।

তবে পরদিনই হোয়াইট হাউস এ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করে। যদিও সাম্প্রতিক বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও বিদেশ সফরে ট্রাম্পের পাশে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে হার্পকে। এ কারণে দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেলানিয়ার অনুপস্থিতিও সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সিনেটর অসফের মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

মুখপাত্র ডেভিস ইংল অসফকে কটাক্ষ করে বলেন, নাটালি হার্প ট্রাম্পের দলের অন্যতম বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সহযোগী। একই সঙ্গে তিনি অসফের বক্তব্যকে গুরুত্বহীন বলে আক্রমণ করেন।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চেউংও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসফকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অসফের রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটাক্ষ করে তার সমালোচনা করেন।

এদিকে, গত সোমবার ওভাল অফিসে এক নারী সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে অসফের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর দেননি। বরং সাংবাদিকের সঙ্গে তীব্র বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং অসফকে আক্রমণ করেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার পেছনে মেলানিয়ার বিষয়টি অপছন্দ করার বিষয়টিও ভূমিকা রাখতে পারে।

নাটালি হার্প কয়েক বছর ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে রয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প তাকে ‘মানব প্রিন্টার’ নামে ডাকতেন। কারণ হার্প সব সময় একটি প্রিন্টার সঙ্গে রাখতেন এবং ট্রাম্পের প্রয়োজন হতে পারে এমন সংবাদ প্রতিবেদন দ্রুত ছাপিয়ে দিতেন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর হার্পকে তার নির্বাহী সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাকে আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।

এর আগেও ট্রাম্পের ওপর হার্পের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের কিছু ব্যক্তি হার্পের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, হার্প প্রায়ই ষড়যন্ত্রতত্ত্বনির্ভর বা বিতর্কিত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেন। পাশাপাশি ট্রাম্পের প্রশংসা করে প্রকাশিত প্রতিবেদনও তার সামনে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পকে দেখা যায়। সেখানে ট্রাম্প পোস্টের জন্য বক্তব্য বলে দিচ্ছেন এবং হার্প দ্রুত তা লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করছেন।

এ ছাড়া নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান তাদের প্রকাশিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইয়ে দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় হার্প ট্রাম্পকে প্রশংসা করে চিঠিও লিখেছিলেন।

 

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন সম্পর্কে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি নাটালি হার্প। একই বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয়ের কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন