শান্তিচুক্তিতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, থাকছে ১৪ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
বছরের পর বছর ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শান্তির পথে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বহুল আলোচিত ও দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই শান্তিচুক্তি নিয়ে এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত না করলেও, চুক্তির সম্ভাব্য বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত শান্তিচুক্তিতে মোট ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রথম এই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এরপর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি চুক্তির খসড়ায় থাকা বিভিন্ন বিষয় প্রকাশ করে জানায়, এতে একাধিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খসড়ার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো-
লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি।
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার।
৩০ দিনের মধ্যে ইরানর বন্দরগুলো ঘিরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার।
ইরানের ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা ইরানকে প্রদান।
ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন না করার বিষয়ে ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি না করা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার।
মেহর নিউজ আরও জানিয়েছে, শান্তিচুক্তির পথে অগ্রসর হতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানের জব্দকৃত অর্থের অন্তত অর্ধেক অংশ মুক্তি, ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করা এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের আগে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু না করা।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হবে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই সব ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সমঝোতা স্মারকে সম্মতির পর মধ্যস্থতাকারীরা চলতি সপ্তাহে একাধিক প্রাক-বাস্তবায়ন বৈঠকের আয়োজন করবেন। এসব বৈঠকে চুক্তি বাস্তবায়নের কারিগরি দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
শেহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য তিনি কাতারের ভূমিকাকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এসি//