আন্তর্জাতিক

ইরানের আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা ওড়ানো উচিত: ট্রাম্প

ইরানের আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা ওড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার উদ্যোগে ওমান বাধা দিলে দেশটিতে বোমা হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে ইরানের এখন আত্মসমর্পণ করা উচিত।

এ সময় তিনি জানান, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগের একটি গোপন পথ চালু রয়েছে। আইআরজিসির নেতাদের ‘ভালো পোকার খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, তারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়া নেই বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, সংঘাতের অবসানের জন্য তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এদিকে যুদ্ধের প্রভাব নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার রাজনৈতিক সমর্থনের ওপরও পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপরই হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমান কোনোভাবে বাধা সৃষ্টি করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে হামলা চালাতে পারে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বর্তমানে ইরানের অবরোধের কারণে সংকটের মধ্যে রয়েছে। প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে তেহরান ও মাসকাটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এ নিয়ে একটি যৌথ ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান ও ওমানের সার্বভৌম অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আলোচনা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাঘাই। তার মতে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের অচলাবস্থার কারণ মধ্যস্থতাকারীর অভাব নয় বরং ট্রাম্প প্রশাসনের এমন কিছু পদ্ধতি, যা অতীতেও বহুবার ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলেও ইরান এটিকে নতুন করে বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি।

তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর শর্ত লঙ্ঘন করায় বাস্তবে কোনো আলোচনা শুরুই হয়নি। নিষেধাজ্ঞা কিংবা অবরোধের চাপেও ইরান অবস্থান পরিবর্তন করবে না বলেও জানিয়েছে দেশটি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

অন্যদিকে, ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার কথাও বলেছেন। এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের পাল্টাপাল্টি কঠোর অবস্থানের কারণে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ব্রায়ান ক্লার্ক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন কার্যকর আলোচনার চেয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

তার মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ ও বিমান শক্তি ব্যবহার করে সরাসরি নিরাপত্তা দিতে হতে পারে। তবে এমন পদক্ষেপে মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ক্লার্কের ধারণা, শেষ পর্যন্ত ইরান ও ইয়েমেনের প্রভাবাধীন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে। তবে এমন সমাধানকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে হিসেবে তুলে ধরতে ওয়াশিংটনকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন