আন্তর্জাতিক

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি, দায়ী ইরান !

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির আসন হারানোর পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের ফল নিয়ে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ধারণার চেয়ে ভালো ফল করতে পারেনি তার দল।

বুধবার (০৪ নভেম্বর) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এর একটি অংশ ছিল ইরান, তবে একই সঙ্গে মানুষ ইরানের সঙ্গে আমি যা করেছি তার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। ঐতিহাসিকভাবে এটি আজকের সন্ধ্যার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে কারণ আপনি এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারেন না।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ মার্কিন রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।

তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। এমনকি টাকার কার্লসনের মতো ব্যক্তিরাও এ বিষয়ে দলের অবস্থানের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেন। ফলে ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়।

নির্বাচনের ফল নিয়ে নিজের বিস্ময়ের কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিছুটা অবাক হয়েছি। আমি ভেবেছিলাম তারা আরও ভালো করবে।’

নির্বাচনের আগে প্রচারণায় নিজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের বিশাল সমাবেশ ছিল। আমাদের প্রায় ৩০টি সমাবেশ ছিল। ভেতরে তো জায়গা ছিলই না, বাইরে হাজার হাজার মানুষ ছিল যারা ঢুকতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমি সেই মানুষগুলোকে প্রার্থীদের দিকে স্থানান্তরিত করতে পারব।’

নির্বাচনে কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী জয়ী হলেও সাউথ ক্যারোলাইনায় ডারলিন গ্রাহামের পরাজয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহামের বোন ডারলিনকে নির্বাচনের আগে সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ডারলিনের জন্য তার ‘খারাপ বোধ করছেন’। কারণ, তাকে একই সঙ্গে ‘শোক পালন ও প্রচারণা’ চালাতে হয়েছে।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যেও পরিবর্তন দেখা যায়।

প্রথম দিকে তিনি দাবি করেন, ব্যালটে তার নাম থাকলে রিপাবলিকানরা ‘ভূমিধস জয়’ পেত। হোয়াইট হাউস থেকেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়। তবে পরে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন।

এদিকে প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে কী করবেন, সে বিষয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, নিজেকে ‘মি. ভিটো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন এবং তার কাছে পাঠানো প্রতিটি আইন বাতিল করবেন। নির্বাচনে ভোট গণনা চলার মধ্যেই ‘ভিটো’ লেখা একটি লাল টুপির ছবিও প্রকাশ করেন তিনি। এর মাধ্যমে হোয়াইট হাউস থেকে ভবিষ্যতে কী ধরনের অবস্থান নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন