আন্তর্জাতিক

ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিতে মিত্রদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও আঞ্চলিক মিত্রদের সম্ভাব্য হামলা এবং ইরানের পাল্টা আঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে দুই কূটনীতিকের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কূটনীতিক জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। 

তারা জানান, নতুন করে অভিযান শুরু হলে তা কয়েক দিন চলতে পারে বলে মিত্রদের জানানো হয়েছে। তবে ইরান ও দেশটির সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাল্টা হামলা চালালে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তেহরান এখনো কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা ধরে রাখতে চায়।

তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কাজ করে গেল মাসে দেওয়া ইরানের একটি প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ইরান এটিকে যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগাতে আগ্রহী।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুদ্ধ যেন আবার পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে আমিরাত।

নির্বাচনের পর মার্কিন সামরিক বাহিনী কত দ্রুত নতুন হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত হতে পারবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

গেল মাসের শেষ দিকে সান দিয়েগো থেকে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরিসহ কয়েকটি জাহাজ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। এসব জাহাজে মেরিন সেনারাও রয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার সেনা মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এই মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে ২০ হাজারের বেশি নাবিক ও মেরিন সেনা এবং শত শত সামরিক বিমান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি গড়ে উঠতে পারে। গত দুই দশকে এ ধরনের উপস্থিতি খুব কমই দেখা গেছে। 

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা উঠে আসেনি। একদিকে তিনি সংঘাতের অবসান ঘনিয়ে এসেছে বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে নির্বাচনের পর নতুন করে বোমা হামলার হুমকিও দিচ্ছেন।

 

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন