দেশজুড়ে

রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসির বাদানুবাদের ঘটনায় পুলিশের জিডি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানার সঙ্গে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বাদানুবাদের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জিডির বিষয়টি জানা যায়

জিডির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তবে ঘটনার সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানায় যরা গিয়েছিলেন, তাদের পরিচয় ও তথ্য পুলিশ সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ওই দিনের ঘটনা উল্লেখ করে একটি জিডি করা হয়েছে। এটি কোনো অভিযোগ নয়। উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ সাধারণত জিডি করে রাখে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে তার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান রুমিন ফারহানা। ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তিনি থানায় যান।

জানা গেছে, দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় রুমিন ফারহানার নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ করা হলেও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া সে ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে জানতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান সংসদ সদস্য। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।

এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন ওসি। ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক, সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’

অন্যদিকে, রুমিন ফারহানার অভিযোগ অস্বীকার করে ওই দিন সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেন, সংসদ সদস্য শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন এবং কয়েকজনকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কথা বলান। ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাওরের সব ইটভাটা পানির নিচে রয়েছে।

পূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই সময়ে ব্যক্তিগতভাবে রুমিন ফারহানার সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন