আন্তর্জাতিক

দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পরিচিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর পরিবর্তে প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য তিনটি নতুন স্থান নির্ধারণ করেছে দিল্লি পুলিশ। স্থানগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।

দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর রাজনৈতিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সংসদ ভবন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাছাকাছি হওয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন এখানে বিক্ষোভ করে আসছে।

২০১১ সালে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির সাক্ষী এই স্থান। ফলে ভারতের গণআন্দোলনের ইতিহাসে যন্তর মন্তরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

এদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে নবীন প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি, বিরোধী দল ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় আন্দোলনকারীরা। তবে কর্মসূচি ঘিরে কঠোর অবস্থান নেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। ধরপাকড়ের ঘটনায় সিজেপির অভিজিৎ দীপকে ও জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীসহ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের কথা বলা হয়েছে। পরে তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। আটকাবস্থা থেকে মুক্তির পর রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা পিছু হটব না।’

সিজেপির এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ-সমাবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত আসে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের জারি করা নতুন নির্দেশনায় এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের স্থায়ী আদেশ নম্বর এল অ্যান্ড ও/৪৮/২০২৬-এর আওতায় নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেন। আদালত এমন স্থান বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন, যেখানে বিক্ষোভকারীদের জন্য শৌচাগার, পানীয় জল ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচল ও জরুরি সেবা যেন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন আদালত।

 

এসি//

 

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন