ধর্ষণের পর তরুণীর মৃত্যু, প্রেমিক গ্রেপ্তার
ধর্ষণের ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক তরুণীর (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় শান্ত পাল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই যুবকের সাথে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। শান্ত পাল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল এলাকার সুনীল চন্দ্র পালের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈরের সফিপুর আহম্মদনগর এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এ ঘটনা ঘটে। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আত্মীয়তার সূত্রে ওই তরুণীর গ্রামের বাড়িতে শান্তর যাতায়াত ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রোববার সকাল ৮টার দিকে ওই তরুণী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। ওই দিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে শান্ত ও তার সহযোগী আনোয়ার হোসেনের সহায়তায় তাকে কালিয়াকৈরের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।
দুপুর ১২টার দিকে শান্ত পাল তাকে ধর্ষণ করে। পরে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর শান্ত পাল অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়।
বাড়িতে গিয়ে শান্ত পাল জানান, খিঁচুনি ওঠার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই তরুণীকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ও পোশাকে রক্তের চিহ্ন দেখতে পেয়ে এবং কথা বার্তায় অসংগিত পেয়ে তারা বিষয়টি নিয়ে শান্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শান্ত পাল ঘটনার কথা স্বীকার করে ।
খবর পেয়ে ভালুকা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল করে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে নিহতের বাড়ি থেকে শান্ত পালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি শান্ত পালকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। মামলার অপর আসামি আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। তরুণীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।’
আই/এ