পুতিনের প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে কিয়েভসহ গোটা ইউক্রেন
রাশিয়ার তীব্র ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই আকস্মিক সফরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিশ মার্জ। রোববারের (০৪ অক্টোবর) এই সফরে ইউক্রেনের প্রতি জার্মানি ও ইউরোপের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি ১৩০ কোটি ইউরোর বেশি নতুন সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মার্জ কিয়েভে পৌঁছানোর সময়ও শহরজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজছিল। রুশ হামলার মধ্যেই তার এই সফরকে ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের সমর্থন এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে জার্মানির অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্জের সফরের দিনই কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ পিভনিচনি বা নর্দার্ন ব্রিজে আবারও ড্রোন হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এই সেতুটি দনিপ্রো নদীর ওপর দিয়ে শহরের দুই অংশকে যুক্ত করেছে। গত কয়েক দিন ধরে কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, এতে রাজধানীর যোগাযোগ ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
রুশ হামলার মাত্রা কতটা বেড়েছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেয়া তথ্যে।
তিনি জানান, এক রাতেই ইউক্রেনজুড়ে ১৩৫টি হামলাকারী ড্রোন ছোড়ে রাশিয়া। এর মধ্যে ৫০টির বেশি ছিল জেটচালিত ড্রোন। কিয়েভ ছাড়াও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, খারকিভ, দোনেৎস্ক, সুমি ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে হামলা চালানো হয়। আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ছিল হামলার লক্ষ্য।
জেলেনস্কি আরও জানান, সুমিতে চিকিৎসাসামগ্রীর একটি গুদামে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। দনিপ্রোর একটি যোগাযোগ স্থাপনায় হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার খবর পাওয়া যায়।
জেলেনস্কির হিসাব অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের ওপর ১ হাজার ৯০০টির বেশি হামলাকারী ড্রোন, ১ হাজার ৭০০টি আকাশ বোমা এবং ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এর মধ্যে ৮০০টির বেশি ড্রোন ছিল জেটচালিত।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কিয়েভে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ফ্রেডরিশ মার্জ। পরে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।
মার্জ বলেন, রাশিয়াকে থামানো না গেলে একসময় তাদের যুদ্ধযন্ত্র ইউরোপের দিকেও ঘুরে যেতে পারে। ইউক্রেনকে সমর্থন করা শুধু দেশটির ভূখণ্ড রক্ষার বিষয় নয়, ইউরোপের নিরাপত্তার সঙ্গেও এটি সরাসরি জড়িত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠক শেষে ইউক্রেনের জন্য ১৩০ কোটি ইউরোর বেশি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে জার্মানি। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ইউরো সামরিক সহায়তায় এবং আরও প্রায় ৩৫ কোটি ইউরো শীতের আগে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। সামরিক সহায়তার আওতায় দূরপাল্লার অস্ত্র, যুদ্ধ ড্রোন, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও রুশ জেটচালিত ড্রোন ঠেকাতে নতুন প্রতিরোধী ড্রোন তৈরির অর্থও রয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের পাল্টা হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণার পর মস্কোও ইউক্রেনের সামরিক ও শিল্প অবকাঠামোয় হামলা বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সঙ্গে কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের শহর ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে রাশিয়া।
সব মিলিয়ে, রুশ হামলার তীব্রতার মধ্যেই মার্জের কিয়েভ সফর এবং নতুন সহায়তার ঘোষণা ইউক্রেনকে ঘিরে জার্মানি ও ইউরোপের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। একই সময়ে সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় রুশ হামলা এবং ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণের ঘোষণায় যুদ্ধের উত্তেজনাও আরও বাড়ছে।
এসি//